চ্যানেল এসের কেইট্রিং সার্কেলের তিন সেরা রেস্টুরেন্টকে স্টার শো অ্যায়ার্ড প্রদান

141

ওয়ানবাংলানিউজ: লন্ডনে-সলিউশন টু দ্যা কেইট্রিং ক্রাইসিস; বিজনেস কনফারেন্স অ্যান্ড গালা ডিনারে বক্তারা আবারো জোর দিয়েছেন সম্মিলিত ক্যাম্পেইনের প্রতি। চ্যানেল এসের রেস্টুরেন্ট ইন্ড্রাস্ট্রি বিষয়ক প্লাটফর্ম কেইট্রিং সার্কেলের এই অনুষ্ঠানে তিনটি সেরা রেস্টুরেন্টকে স্টার শো অ্যায়ার্ড প্রদান করা হয়। এই বিজয়ীদের মাধ্যমে সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে ক্রিয়েটিভ হেলদি ফুড, প্রেজেন্টেশন এবং সার্ভিসে পরির্তন ও উন্নয়নের মাধ্যমে সামগ্রিক সাফল্যের চিত্র তুলে ধরা হয়।
বৃটিশ কারি মেন্যুতে চিকেন টিকা মাসালা যেমন ন্যাশনাল ডিশের মর্যাদা পেয়েছিলো ঠিক তেমনি একটি ডিশ তৈরির প্রকল্পে এগিয়ে আসার জন্য মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম কেইটরিং সার্কেল আহ্বান জানিয়েছিলো রেস্টুরেন্ট ব্যবসায় এক ঝাঁক তরুণ প্রতিভাবান ও সৃজনশীল ব্যবসায়ীকে। তাদের স্বত:স্ফূর্ত সাড়ায় আয়োজিত হলো বছরব্যাপী প্রতিযোগিতা। মাসের পর মাস রিসার্চ, টেস্টিং, ফুড কনসিউমিং, হ্যামারস্মিথ কলেজে প্রশিক্ষণ কর্মশালা এবং চ্যানেল এস টেলিভিশনে লাইভ শোতে ক্রিয়েটিভ ডিশ কম্পিটিশন করার পর নির্বাচিত হলো এক স্টার উইনার ও দুই ফাইনালিস্ট ডিশ। এই প্রকল্প আসলে শুরু হয়েছিলো ২০১৭ সালে ধারাবাহিকের সীজন টু-তে। সীজন টু-র ১২ জন বিজয়ীই সীজন থ্রি: রেস্টুরেন্ট স্টার শো-তে প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। তাদের নিয়ে কেইটরিং সার্কেলের চতুর্থ ‘লন্ডন বিজনেস কন্ফারেন্স’-এ প্রথম বারের মতো অনুষ্ঠিত হলো রেস্টুরেন্ট স্টার শো এওয়ার্ডস সিরিমনি।

নর্থ লন্ডনের মেরিডিয়ান গ্র্যান্ড ভেন্যুতে মঙ্গলবার ৫ই মার্চ সন্ধ্যা ৫টা থেকে ১১টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এই কন্ফারেন্সে সমগ্র বৃটেন থেকে এবারও প্রায় ৬শ‘র বেশী রেষ্টুরেন্ট ও টেইকওয়ে ব্যবসায়ী অংশ নেন। ফাউন্ডার মোহাম্মদ আব্দুল হকের নেতৃত্বে এবং মার্কেটিং অ্যান্ড ব্র্যান্ড ডাইরেক্টর তৌহিদ শাকীলের সফল প্রযোজনায় এবার চতুর্থবারের মতো অনুষ্ঠিত হলো বৃটিশ কারি ইন্ডাস্ট্রিতে সাড়া জাগানো এই ইভেন্ট। ইভেন্ট পরিচালনায় ছিলেন মিডিয়া লিংকের মুজিব ইসলাম এবং চ্যানেল এসের আহাদ আহমেদ। সহযোগিতায় ছিলেন কেইট্রিং সার্কেলের এক্সিকিউটিভ টিমের আলতাফ হোসেন, হেলাল মালিক, ফরহাদ হোসেন টিপু, রুহুল শামসুদ্দিন এবং মুরাদ আহমেদ।

ওসতাদ ইউসুফ আলী খান ও তার টিম ‘সুরতাল’-এর ইন্সট্রুমেন্টাল ফিউশনের মাধ্যমে শুরু হয় কেইটরিং সার্কেল বিজনেস কনফারেন্স। এই মনমাতানো যন্ত্রসঙ্গীতে তার সঙ্গে আরো অংশ নেন বৃটেনের গ্যারি হান্ট, অস্ট্রেলিয়ার লুই এলিয়ট, বালগেরিয়ার লিলিয়া লঞ্চেভা এবং চীনের শিল্পী রুইজুঁ হু। জমজমাট এ অনুষ্ঠানে সেরা তিন রেস্টুরেন্টকে স্টার শো এয়ার্ড প্রদান ওকরা হয়। এরা কেইট্রিং সার্কেলের সীজন টু-তে ক্রিয়েটিভ ডিশ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে বিজয়ী হন। এর আগে ২০১৭ সালে ৯৬টি রেস্টুরেন্টের মধ্যে এই প্রতিযোগিতার প্রাথমিক পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। সীজন টু-তে ১২জন বিজয়ী হন। সীজন টু-র বিজয়ীদের নিয়ে গত বছর অনুষ্ঠিত হয় সীজন থ্রী।

এদের মধ্য থেকে বিভিন্ন পর্যায়ের যাচাই বাছাই ও লাইভ প্রতিযোগিতা শেষে ফাইনালে বিজয়ী হয় সাফোক্সের মনতাজ রেস্টুরেন্টের ‘স্লো রোস্টেড অক্স চীক’ ডিশ। প্রতিযোগিতায় ফাইনালিস্ট হয় নর্থ লন্ডনের বেইলীফ রেস্টুরেন্টের ক্রিয়েটিভ ডিশ ‘বাটাখ’ এবং সেইন্ট অ্যালবান্সের চিলি বার অ্যান্ড কিচেনের ‘স্যামন অ্যাস্পারা‘।

বিবিসি ও চ্যানেল এসের প্রেজেন্টার নাদিয়া আলীর উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে উইনার অফ উইনার্স মনতাজ এবং প্রতিযোগিতার অপর দুই ফাইনালিস্ট ও সীজন টু‘র উইনার বেইলিফ এবং চিলি বার কিচেনকেও অ্যাওয়ার্ড তুলে দেয়া হয়।

রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়র এই সংকটকালেও যারা সফলভাবে ব্যবসায় করে যাচ্ছেন, অন্যদের অনুসরণের সুবিধার্থে তাদের সাফল্যের চিত্র তুলে ধরতে এবছর কেইট্রিং সার্কেলের পক্ষ থেকে প্রথমবারের মতো গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হলো ‘রেস্টুরেন্ট সাক্সেস স্টোরিজ’। কনফারেন্সের বুক লঞ্চ পর্বে বইটির মোড়ক উন্মোচন করেন লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ এমদাদুল হক চৌধুরী, কারি লাইফ ম্যাগাজিন এডিটর সৈয়দ নাহাস পাশা ও বিবিসিসিআই-এর ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট শাহগির বখত ফারুক।

কেইট্রিং সার্কেলের ফাউন্ডার এবং এক্সিকিউটিভ প্রডিউসার মনে করেন-পুরো আয়োজন ইন্ড্রাস্ট্রির জন্য দৃষ্টান্ত। তিনি বলেন, ‘‘কারি সেক্টরকে রীতিমতো তাদের মেনু রূপান্তরের চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছে কেইটরিং সার্কেল প্ল্যাটফর্ম। কারি শিল্পকে পুনরায় ইজ্জীবিত কোরতে, স্বাস্থ্যসম্মত ও নতুন নতুন উদ্ভাবনী খাবার তৈরীতে তরুণ ব্যবসায়ীদের নিরলস শ্রম ও চেষ্টায় আমি সত্যিই ভীষণ আনন্দিত এবং অনুপ্রাণিত।’’

ইভেন্টের শুরুতে ছিলো কনফারেন্স পর্ব। বিশিষ্ট অতিথিদের উপস্থিতিতে এই অংশে ছিলো কারিশিল্পে ব্রেক্সিটের প্রভাব পর্যালোচোনা নিয়ে প্যানেল আলোচনা। হাসিনা মমতাজের উপস্থাপনায় এতে এমপি, হাইকমিশনারসহ ইন্ড্রাস্ট্রি নেতৃবৃন্দ অংশ নেন। ইন্ড্রাস্ট্রি ইস্যু নিয়ে নিজেও হোম সেক্রেটারীর সঙ্গে কথা বলবেন বলে জানান হাইকমিশনার সাইদা মুনা তাসনিম। লেইবার পলিটিশিয়ান রাইট অনারেবল স্টিফেন টিমস এমপি এখোনো ব্রেক্সিট বিষয়ে হতাশা এবং রিমেইনের পক্ষের অবস্থানের কথা জানালেন।

অনুষ্ঠানে চ্যানেল এস ফাউন্ডার মাহি ফেরদৌস জলিল, এমডি তাজ চৌধুরীও শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন। সমাপনী বক্তৃতা করেন চেয়ারম্যান আহমেদুস সামাদ চৌধুরী জেপি। তিনি বলেন, ‘‘কেইটরিং সার্কেলের সীজন থ্রির প্রতিযোগীদেও তৈরী করা নতুন খাবারগুলোর সৃজনশীলতা, গুনগত মান, উপস্থাপন শৈলী সত্যিকার অর্থেই প্রেরণা উদ্দীপক। কারী শিল্পের যাবতীয় সংকটের মৌলিক কারণগুলো চিহ্নিত করে সেগুলোর কার্যকর সমাধান খুঁজে বের করে আমাদের এই প্রিয় শিল্পকে বাঁচানোর জন্য সকলের সহযোগিতায় ব্যবসায়-সম্প্রদায়কে রীতিমত চাঙ্গা করে তুলেছে চ্যানেল এস টেলিভিশন এবং কেইটারিং সার্কেল। চলমান ব্রেক্সিট বাস্তবতার এই সংকটকালীন সময়ে সব ধরণের চ্যালেঞ্জের মোকাবিলায় আমাদের আরো বেশী ঐক্যবদ্ধ হওয়া দরকার।’’