রিজার্ভ চুরি : মামলা করতে যুক্তরাষ্ট্র যাচ্ছেন প্রতিনিধি দল

    49

    ঢাকা সংবাদদাতা: রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং কর্পোরেশনের (আরসিবিসি) বিরুদ্ধে রিজার্ভ চুরির দায়ে যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে মামলা করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ইতিমধ্যে চার সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।
    আজ দলের সদস্যরা ঢাকা ত্যাগ করবেন। তারা ২৮ জানুয়ারি থেকে ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করবেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের একাধিক বিশ্বস্ত সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

    জানা গেছে, আরসিবিসির বিরুদ্ধে মামলার ক্ষেত্রে সব ধরনের সহায়তা দেবে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্ক। তবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, এ ধরনের ঘটনার পর তিন বছরের মধ্যে মামলা না করলে তার গুরুত্ব কমে যায়। আর এ লক্ষ্যে আগামী ৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে মামলা করতে চায় বাংলাদেশ ব্যাংক। মামলার জন্য আজ রাতে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইনটেলিজেন্স ইউনিটের উপদেষ্টা দেবপ্রসাদ দেবনাথ, অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড বাজেটিং বিভাগের সাবেক ডিজিএম বর্তমানে মহাব্যবস্থাপক মো. জাকের হোসেন এবং বিএফআইইউর যুগ্ম পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রব যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বেন। আর বর্তমানে লন্ডনে অবস্থানরত বাংলাদেশ ব্যাংকের আইনজীবী আজমালুল হোসেন কিউসি সেখান থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যাবেন।

    জানা গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে মামলাটি করবে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়োগ দেয়া দুই ল’ ফার্ম। মামলার পর প্রয়োজনীয় সহায়তার জন্য বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে নিউইয়র্ক ফেডের প্রতিনিধি দল ফিলিপাইনে যাবে।

    ২০১৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কে রক্ষিত বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট থেকে ভুয়া পেমেন্ট অর্ডারের বিপরীতে ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি হয়। এর মধ্যে শ্রীলংকায় যাওয়া দুই কোটি ডলার বিতরণ হওয়ার আগেই ফেরত পায় বাংলাদেশ।

    আর ফিলিপাইনে যাওয়া আট কোটি ১০ লাখ ডলারের মধ্যে দেশটির আদালতের নির্দেশে প্রায় দেড় কোটি ডলার ফেরত আসে। এর পর থেকে পুরো অর্থ ফেরত পাওয়ার দাবি জোরালোভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এখন বাকি ছয় কোটি ৬০ লাখ ডলার ফেরত পাওয়ার জন্য মামলা করা হচ্ছে।

    এসব অর্থের মধ্যে ১৪ মিলিয়ন ডলার ছাড়া বাকি অর্থের খোঁজ পাওয়া গেছে। যার বড় অংশই দেশটির আদালতের নির্দেশে ফ্রিজ হয়ে আছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনায় আরসিবিসির সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক মায়া সান্তোস দেগুইতোকে সম্প্রতি ৩২ থেকে ৫৬ বছরের কারাদণ্ড ও ১০ কোটি ৯০ লাখ ডলার জরিমানার আদেশ দিয়েছেন ফিলিপাইনের আদালত। এই সাজার মধ্য দিয়ে অর্থ পাচারের ঘটনায় মায়া আইনগতভাবে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন।