লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাব নির্বাচন ২৭ জানুয়ারী: কারা হচ্ছেন সাংবাদিকদের নেতা

307

মতামত কলাম: লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আগামী ২৭ জানুয়ারী রবিবার। নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থীরা প্রচার প্রচারনা চারিয়ে যাচ্ছেন। নির্বাচনে প্রার্থীদের প্রচারনা নিয়ে ফেইসবুকে নিজের অভিমত তুলে ধরেছেন বার্মিংহামের সাংবাদিক আতিকুর রহমান। নিচে তার অভিমত অনুমতিক্রমে হবুহু তুলে ধরা হল।

আতিকুর রহমান: অনেকটা উৎসব মুখর পরিবেশ বিরাজ করছে বৃটেনের বাংলা মিডিয়ায়। আগামী ২৭ জানুয়ারী বৃটেনের বাংলা মিডিয়ার সবচেয়ে বড় প্রতিনিধিত্বশীল সংগঠন লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের দ্বিবার্ষিক নির্বাচন। আর এই নির্বাচনকে ঘিরে মিডিয়াপাড়ায় শুরু হয়েছে এক বিশাল আনন্দযজ্ঞ।
দু’টি প্যানেলে মোট ১৫ টি পদে ২৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। টিম নাহাস পাশা ও এমাদ-জুবের-মুরাদ এলায়েন্স প্রায় প্রতিদিনই দলবেঁধে বিভিন্ন মিডিয়া হাউজগুলোতে নিজেদের পক্ষে ভোট নিয়ে আসতে জোর তদবির চালাচ্ছেন। এছাড়া প্রার্থী ও প্রার্থীর সমর্থকরা ধরনা দিচ্ছেন ভোটারদের কাছে মোবাইল ফোন অথবা ফেসবুকের মাধ্যমে। লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের নির্বাচন নিয়ে বাঙালী কমিউনিটিতে ও ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে।
বর্তমান নির্বাচন নিয়ে অন্য অনেকের মতো আমিও পড়েছি এক বিরাট দ্বিধাদ্বন্দ্বে। উভয় প্যানেলেই রয়েছেন আমার বেশ কয়েকজন অতি আপনজন, আত্মার আত্মীয়। যাদের একেকটি রিকোয়েস্ট রক্ষা করা আমার দায়িত্ব বলে মনে করি। কিন্তু এদের অনেকেই আবার একই পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাই আমার অবস্থা অনেকটা ‘শ্যাম রাখি না কুল রাখি।’
এবারের লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাব নির্বাচনে উভয় প্যানেলই প্রচারনার ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভিডিও বার্তায় ভোটারদের মন জয় করার পদ্ধতি অনেকেই পজিটিভ ভাবে নিয়েছেন। ফেসবুক ছাড়া ও স্ন্যাপচ্যাট, টুইটার, হোয়াটসআপসহ অন্যান্য যোগাযোগ মাধ্যমে ঘন্টায় ঘন্টায় আপডেট দিয়ে যাচ্ছেন অনেকে। শুধু তাই নয় লন্ডনের বাইরে দ্বিতীয় বৃহত্তম বাঙালী অধ্যুষিত অঞ্চল বার্মিংহাম, ম্যানচেস্টার ওল্ডহ্যামে সরাসরি গিয়েও দফায় দফায় বৈঠক করছেন উভয় প্যানেল। এরই অংশ হিসেবে গত সপ্তাহে টিম নাহাস পাশা ও গতকাল রোববার এমাদ-জুবের-মুরাদ এলায়েন্স বার্মিংহামের সাংবাদিকদের সাথে বৈঠক করেন। বার্মিংহামের সাংবাদিকরা দু’টি গ্রুপে বিভক্ত হওয়ায় উভয় প্যানেলই দু’টি গ্রুপের সাথে আলাদা বৈঠক করে পুরো গ্রুপের ভোট নিজেদের পক্ষে নিয়ে আসতে জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। এ সময় অনেকে আগামীতে মেম্বার নিয়োগে আরো স্বচ্ছতা নিয়ে আসতে দাবী জানান।
এবার সম্পাদকীয় একটি পদ ছাড়া আর সবগুলোতেই হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে বলে আশা করা হচ্ছে। শুধু সাধারণ সম্পাদক হিসেবে বৃটেনে বাংলা মিডিয়ার তুমুল জনপ্রিয়, চ্যানেল এস’র চিফ রিপোর্টার মোহাম্মদ জুবায়েরের জয় অনেকটা নিশ্চিত বলা যায়। তার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বেতার বাংলা’র প্রডিউসার ও প্রেজেন্টার ড. আনিসুর রহমান।
এছাড়া সভাপতি পদে ক্লাবের বর্তমান সভাপতি সৈয়দ নাহাস পাশা ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইমদাদুল হক চৌধুরী’র মাঝে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। ‘কেউ কারে নাহি ছাড়ে সমানে সমান’ হেভিওয়েট এই দুই প্রার্থীর মাঝে কে সভাপতি হোন এটাই এখন মূল আলোচ্য বিষয়।
সহ সভাপতি পদে মুহাম্মদ আব্দুস সাত্তার ও ব্যারিষ্টার তারেক চৌধুরী, দু’জনই সাধারণ সদস্যদের মাঝে শ্রদ্ধার পাত্র। তবে স্যোশাল মিডিয়ায় নিয়মিত আপডেটের কারনে তারেক চৌধুরী কিছুটা এগিয়ে আছেন বলে মনে হচ্ছে।
ট্রেজারার পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আবু সালেহ মো: মাসুম ও আব্দুল কাদের মুরাদ চৌধুরী। তবে এক্ষেত্রে আবু সালেহ মো: মাসুম সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন বলে অনেকেই মনে করছেন।
এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি পদে মতিয়ূর রহমান চৌধুরী ও মোহাম্মদ সুবহান। দু’জনই যোগ্যতম প্রার্থী।
কমিউনিকেশন সেক্রেটারী পদে সাবেক দুই কলিগ, সিলেটে অবস্থানকালে দু’জনই সিলেটের বহুল প্রচারিত দৈনিক জালালাবাদে কাজ করেছেন। মুহাম্মদ আব্দুল কাইয়ূম ও জাকির হোসেন কয়েসের মধ্যে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। এখন দেখার পালা শেষ হাসি কে হাসেন।
এবারের নির্বাচনে অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয় ট্রেনিং এন্ড রিসার্চ সেক্রেটারী পদ। এই পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বর্তমান ট্রেনিং এন্ড রিসার্চ সেক্রেটারি, চ্যানেল এস’র সিনিয়র রিপোর্টার ইব্রাহিম খলিল ও ব্রিট বাংলা ২৪ ডটকম’র এক্সিকিউটিভ এডিটর আহাদ চৌধুরী বাবু। ইব্রাহিম খলিল তার সময়ের সফলতা তুলে ধরে তাকে পুনরায় নির্বাচিত করার আহ্বান জানাচ্ছে। অপরদিকে আহাদ চৌধুরী বাবু তাকে নির্বাচিত করে নতুন কিছু করে দেখানোর প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।
ইনফরমেশন এন্ড টেকনোলজি পদে লড়াই হচ্ছে সালেহ আহমদ ও আনোয়ার শাহজাহান এর মধ্যে। এ পদে এবার একটি চমক আসতে পারে বলে অনেকেই মনে করছেন।
এছাড়া কার্যনির্বাহী সদস্য পদে মোট ১১ জন রয়েছেন। এর মধ্যে ছয়জনকে সদস্যরা ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত করতে পারবেন। এরা হলেন রহমত আলী, আব্দুল কাইয়ুম, সারওয়ার হোসেন, পলি রহমান, জে ইউ এম নাজমুল হোসেন, রূপি আমিন, শাহনাজ সুলতানা, তাওহিদ আহমদ, ইমরান আহমেদ, মো: হাবিবুর রহমান ও জুয়েল শেখর দাস । আগামী রোববার লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের ৩১৮ জন ভোটার আগামী দুই বছরের জন্য তাদের নেতা নির্বাচিত করবেন। তবে আবেগ তাড়িত হয়ে নয় বিগত দুই বছরের সফলতা ব্যর্থতা যাচাই করে কর্মী বান্ধব একটি কমিটি গঠন হবে এবারের মূল চ্যালেন্জ।
দিন শেষে যে ই নির্বাচিত হোন না কেনো তারা যেনো ক্লাবের সাধারণ সদস্যদের সুখ-দুঃখের পালস বুঝতে পারেন এটাই প্রত্যাশা।
নির্বাচিত সকলের প্রতি আগাম শুভেচ্ছা।