ইতালী রোমের টারমিনি যেন মিনি বাংলা টাউন

340

ইতালী থেকে আহমদ হোসেন হেলাল : ইতিহাস ঐতিহ্যের শহর ইতালির রাজধানী রোম। যাকে বলা হয় সিটি অফ লাভ। এই রোম শহরে পযটক অাসলে এমনিতে শহরের প্রতি ভালবাসা হয়ে যায় ।এই শহরের মাঝে ইসলামের অনেক ইতিহাস রয়েছে ।
এই মেগা সিটিতে নানা বর্ণের নানা ধর্মের মানুষের বসবাস । রোম শহরে বাংলাদেশীদের অবস্থান কোন অংশে কম নয়। বাংলাদেশীদের ব্যবসা বানিজ্য সহ নানা পেশায় জড়িত মানুষের আনগোনা চোখে পড়ার মত। এমনকি রোমের টারমিনি এলাকাকে মিনি বাংলা টাউন বলা যায় । যেমন লন্ডনের ব্রিকলেন, ম্যানচেসটারের রোশম, শেফিলডের ডারনাল, বামিংহামের কভেনট্রি রোড ও নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটস সহ পৃথিবীর নানা দেশে বাংলাদেশীদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে । সেই সব দেশে নানা পেশার মানুষের সরব উপস্থিতি থাকে ঐ এলাকায় বাংলাদেশী আমেজ। রোম শহরের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশী রেস্টুরেন্ট । বৃটেনের মত বাংলাদেশীরা ব্যবসা প্রতিসটানের মত ইতালিতে না হলেও এগিয়ে যাচ্ছে বলা যায় । রোম শহরের রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ী আখতার ডালী জানিয়েছেন, তার ব্যবসা ভাল হলেও আগের মত নেই । প্রবাসে থাকলেও দেশ ও মানুষের কথা মনে পড়ে।

এদিকে রোমে ফিলিপিনের অমায়িক মানুষ ক্রিশিচিয়ানো । কফিসোপ ও আইসক্রীমের দোকানের পরিচালক । কিছু বাংলা বেশ আনন্দে বলতে পারেন । তার দোকানে কফি ও কেক কিনতে গেলে তিনি বললেন বাংলাদেশী মানুষ নাকি খুবই পরিশ্রমী। ক্রিশিচিয়ানোকে আমার এমেরিকার মামাতো ভাইয়ের স্ত্রী ফিলিপিনো বলায় তার মুখে হাসি নিয়ে কিছু খাবার আপ্যায়ন করলেন ।
পবিত্র মহাগ্রন্থ অালকোরানে রোম শহরের কথা উল্লেখ রয়েছে । রোম শহরে আসার আগে এ নিয়ে শেফিলডের মৌলানা আবদুল গাফফার ও লন্ডনের এডভোকেট আবু সাঈদ জালাল রোমের ইসলামী ইতিহাস ও সুরা রোমের কথা আমাকে তারা চমৎকার ভাবেই বলেছিলেন । এদিকে আমার পযটক সংগী আবদুল কাদির , রউফ মিয়া , ও সুফি মিয়ার সাথে সুরা রোম নিয়ে আলোচনা হয়েছে । তাই আমাদের এই দেশ নিয়ে আগ্রহ এই শহরের মানুষের সমাদরে ও চমৎকৃত হয়েছি। ইতালীয়ান রেস্টুরেন্ট এর শেফ আলম তালুকদার বেশ আবেগ অনেক কথা বললেন । তার মতে এমেরিকা বৃটেনের চেয়ে ইটালীতে মানুষের মধ্যে সুখ শান্তি অনেক বেশী। শেফ আলম এও বললেন তার অনেক বন্ধু ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সুযোগে ব্যবসা চাকুরি ছেড়ে বৃটেন গিয়েছে। তারা অনেকে আজ হায়হায় করতেছে। আলম শেফ সহ তার বন্ধুরা বৃটেনে ঘুরে এসে বৃটেনের ইটালী প্রবাসীরা দুঃখের অবস্থা নিজ চোখে দেখে এসেছেন। আলম বৃটেনে যেতে চান না। এছাড়াও ইতালী প্রবাসী আলম প্রবাসে শত ব্যস্থতার মধ্যে ও নিজ দেশ ও মানুষের কথা মনে পড়ে । কিনতু আলম জানালেন ,বাংলাদেশের একটি বিষয়ে তাকে বেশ পীড়া দেয়। তা হলো বাংলাদেশের দৈনন্দিন খাদ্যের মধ্যে ফরমালিন,ভেজাল। দেশের মানুষের সুস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি। রাজনীতি নিয়ে সবাই ব্যসত । তাই মানুষের জীবন ধারনের জন্য খাবারের মান সঠিক রেখে সাসত্য সমমত খাবারের নিশচয়তা সরকারের দিতে হবে।
ইতিহাস ঐতিহ্যের শহর রোম ভ্রমণ করে যেমন বেশ আনন্দ উপভোগ করেছি তেমনি বাংলাদেশীদের ব্যবহারে মুগ্ধ হয়েছি। আবার বেশ কিছু বাংলাদেশীদের কষ্টের কথা শুনেছি । একজন বাংলাদেশী তিনি রেস্টুরেন্ট এ কাজ করেন । দুখের সাথে তিনি বললেন, এক সময় তিনি কুয়েতে বেশ ভাল ছিলেন । তিনি জীবনের ঝুকি নিয়ে সাগর পাড়ি দিয়ে ইটালী এসেছেন। তাদের কথা শুনে মনে হাহাকার মনে হয়েছে । খুব কষট লেগেছিলো । শুধু ইটালী নয় ইউরোপ, এমেরিকা , বৃটেন মধ্যপ্রাচ্যের দেশে বাংলাদেশীরা অনেকে ভাল থাকলেও কেউ কেউ বেশ কষট করছেন । সত্যি কথা হলো বাংলাদেশীরা পরিশ্রমী জাতী । সেই কথাটা শুধু রোমের ক্রিশিচিয়ানো বলে না , বিশ্বব্যাংকের প্রধান সহ অনেকে বলে। তাই সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রাথনা রইলো আমাদের বাংলাদেশীদের এই পরিশ্রম যেন সৌভাগ্য বয়ে আনে। রোমে আমাদের সংক্ষিপ্ত সফর শেষে চলে আসবো কিনতু এই শহরের কথা, বাংগালী ভাইদের দুঃখের কথা ,ও তাদের আততেয়তার কথা অনেক দিন মনে থাকবে ।