যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগ সভাপতি সুলতান মাহমুদ শরীফের নির্বাচন ভাবনা

249
সুলতান মাহমুদ শরীফ: বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রধান জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যে সরকার গত প্রায় ১০ বছর ধরে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে আছে, সেই সরকারের মেয়াদকাল আগামী ডিসেম্বর-জানুয়ারীতে শেষ হবে। মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সরকারের দেয়া শাসনতন্ত্রের ভিত্তিতে নির্বাচিত সরকারের অধীনে দুই টার্ম দেশের সেবা করার সুযোগ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ পেয়েছিল। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে জয়লাভ করেও পাকিস্তানী সামরিক জান্তার ষড়যন্ত্রের কারনে রাষ্ট্রক্ষমতার ভার আওয়ামী লীগ নেতৃত্বের উপর ন্যাস্ত করায় বাধা দেওয়ার ফলেই আমাদের স্বপ্নের দেশ বলে বহুল প্রচারিত পাকিস্তান ভেঙ্গে টুকরো টুকরো হয়ে গেছে। ১৯৭১ এ যে বর্বরতা ও নৃশংসতা আমরা বাঙালিরা প্রত্যক্ষ করেছি তার পুনরাবৃত্তি সিন্ধু, বেলুচস্তিান ও উত্তর পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশের জনগণ ভোগ করছে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়া থেকে।এর আগেও আজকের পাকিস্তানের অবস্থা করুণই ছিলো। নাগরিক, সা্মাজিক অধিকারসহ সকল অধিকার থেকে এই সংখ্যালঘু প্রদেশগুলো বঞ্চিত হয়েছে পাকিস্তানের পুরোটাকালেই।এ প্রসঙ্গ নিয়ে আলোচনা করার জন্য আজকের এ লেখা নয়।  আমার লেখার মূল বিষয় বাংলাদেশ।
লক্ষ, লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত আমাদের স্বাধীনতার সুফলকে জনগনের দোরগোড়ায় পৌছে দেওয়ার জন্য বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার সহকর্মীদের ও দেশের মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে কঠোর পরিশ্রম করে যখন বাংলাদেশকে যুদ্ধবিধ্বস্ত অবস্থা থেকে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে এনেছেন তাদের দু,মুঠো অন্নের ও মাথা গোজার ব্যবস্থা করছিলেন, তখনই সামরিক বাহিনীর একটি অংশের সাহায্য নিয়ে তাকে পরিবার পরিজন সহ হত্যা করা হয়।রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে পাকিস্তানের অনুদাস সামরিক জান্তা এই অবস্থার মধ্যে মুক্তিযোদ্ধাদের নেতৃত্বশূণ্য করার প্রচেষ্টা হিসাবে আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রবাদ পুরুষ সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজ উদ্দিন আহমদ,ক্যাপ্টেন (অব:)মনসুর আলী, এ্এইচএম কামরুজ্জামানকে বন্দীদশায় জেলের অভ্যন্তরে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়।
লক্ষ লক্ষ মুক্তিযোদ্ধা, ছাত্র যুবকদের উপর নেমে আসে অত্যাচার নির্যাতন ও হত্যাযজ্ঞ। মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক নেতাদের উপর শুরু হয় জেল জুলুম ও অত্যাচার।সারাদেশকে পরিণত করা হয় কারাগারে। ছাত্রলীগ, যুবলীগ শ্রমিকলীগ, সেচ্ছাসেবকলীগ নেতাকর্মী ও বঙ্গবন্ধু সরকারের প্রায় সকল সংসদ সদস্যদের জেলে নিক্ষেপ করা হয় এবং বছরের পর বছর তারা বিনা বিচারে কারাভোগ করতে থাকেন।
লক্ষ, লক্ষ ছাত্র যুবক দেশান্তরিত হয়ে পাশ্ববর্তী দেশগুলোতে গিয়ে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে থাকে।এই অবস্থার মধ্যেই খুনী খন্দকার মোস্তাককে তাড়িয়ে দিয়ে পাপিষ্ঠ জিয়াউর রহমান হাজার হাজার সামরিক বাহিনীর সদস্যদেরকে হত্যা করে রাষ্ট্রক্ষমতা কুক্ষিগত করে।একাত্তরের রাজাকার, আলবদর পাকিস্তান মুসলিম লীগ ও নেজামে ইসলামের পান্ডাদের সহায়তায় পাকিস্তানপন্থী বাঙালি ব্যবসায়ীদের যোগসাজশে বাংলাদেশে স্থাপিত সকল ব্যবসা, বানিজ্য, কলকারখানা দেশবিরোধী পাকিস্তানপন্থীদের করায়ত্ত করতে সহযোগীতা করে।
রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকাকালেই সামরিক আইন জারি করে বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবার পরিজনের হত্যাকারীদের বিচার যাতে না করা যায় তার জন্য ইনডেমিনিটি অধ্যাদেশ জারি করে ও জাতীয় নেতাদের হত্যার বিচার বন্ধ করে রাখে। একটি প্রহসনমূলক হ্যা, না ভোটের আশ্রয় নিয়ে, না ভোটের বাক্সের কোন ব্যবস্থা না রেখেই, আজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশন ব্যবহার করে নিজের পক্ষে একটি রায় জোগাড় করে বেআইনীভাবে দেশ দখল ‘পাকাপোক্ত’ করে। জিয়ার শাসনকালেই এই ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা।তিনি তার বোন শেখ রেহানাসহ পচাত্তর সালের ১৫ই আগস্টে জার্মানীতে অবস্থান করছিলেন, তাই প্রাণে বেঁচে যান।  তথাপিও আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হয়ে ১৯৮১ সালে পিতা, মাতা, ভাই, আত্মীয় স্বজনের নৃশংস হত্যাকারী জিয়াউর রহমান ও তার পারিষদদের শাসনকালেই জীবনের ঝুকি নিয়ে দেশে ফিরে আসেন। দেশে ফিরে এসে পৈতৃক ভিটা ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাড়িতেও তাঁকে উঠতে দেওয়া হয় নাই।গৃহহীন, আশ্রয়হীন অবস্থায় আত্মীয় পরিজনদের আশ্রয় থেকে তাকে স্বামী, সন্তানদেরকে নিয়ে দিনাতিপাত করতে হয়। তবুও দেশপ্রেমকে সম্বল করে, বাংলার জনগণের ভালোবাসাকে মর্যাদা দিতে শেখ হাসিনা রাজনীতির মাঠে সরব হয়ে এই সামরিক জান্তাকে উৎখাত করে একটি গণতান্ত্রিক সরকার স্থাপনের আন্দোলনে নিজেকে পুরোপুরিভাবে নিয়োজিত করতে বদ্ধপরিকর হন।তারই প্রচেষ্টায় বাংলার মুক্তিকামী মানুষ সকল দ্বিধাদন্ধ উড়িয়ে দিয়ে দেশপ্রেমে বলীয়ান হয়ে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ও সাধনার ফল বাংলাদেশকে পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে লিপ্ত হয়।
১৯৯১ সালে বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুন:প্রতিষ্ঠার সূচনা হয়। ১ কোটি ৩৫ লক্ষ ভূয়া ভোটার ব্যবহার করে সে নির্বাচনে বেগম খালেদা জিয়া মেজরিটি পার্টির লিডার হিসাবে প্রধানমন্ত্রীর আসন দখল করেন। ৫ বছরের মাথায় আরেকটি সাধারণ নির্বাচনে জয়ী হয়ে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকার গঠণ করতে সক্ষম হয়। পরবর্তী ৫ বছরে বঙ্গবন্ধুর অনুসৃত পথে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা হয়। বাহাত্তরের শাসনতন্ত্র পুন:স্থাপন করে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের, জাতীয় নেতাদের হত্যাকারীদের ও ১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধা ও ব্যাপক জনগন হত্যাকারী যুদ্ধাপরাধী, আলবদর, রাজাকারদের বিচারের আওতায় নিয়ে আসা হয়। ৫ বছরের মাথায় আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র, দেশের সম্পদ বিশেষ করে গ্যাস সম্পদ কুক্ষিগত করার আমেরিকাসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রের ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে গিয়ে এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারায় ও বেগম জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়্।
এবার রাষ্ট্রক্ষমতায় এসে ক্ষমতা পাকাপোক্ত করার জন্য ও অর্থবিত্ত আহরন করার তাগিদ নিয়ে সারাদেশে বিএনপি নেতাকর্মীরা বেগম জিয়াপুত্র তারেক রহমানের নেতৃত্বে হরিলুটের রাজত্ব কায়েম করে।  তাদের লুটপাটে অতিষ্ঠ হয়ে সারাদেশের মানুষ বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। এই সময় বাংলাদেশে জেএমবির নেতৃত্বে, জামাতের পৃষ্ঠপোষকতায় তারেক জিয়া ও খালেদা জিয়ার প্রত্যক্ষ মদদে সারাদেশব্যাপী শুরু হয় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হত্যার হলিখেলা। শহরে শহরে, গ্রামে গ্রামে আওয়ামী লীগ ও সংখ্যালঘু জনসাধারনকে নির্বিচারে হত্যা শুরু হয়। এদের হাতে যখন সারাদেশ জিম্মি, তখন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের জনগণ সকল বাঁধা বিপত্তি স্বত্তেও সভা সমাবেশ করে এর প্রতিবাদ করতে থাকে।
এই প্রতিবাদেরই এক পর্যায়ে ২০০৪ সালের ২১শে আগস্ট রাজধানী ঢাকার আওয়ামী লীগ অফিসের সামনে সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশ হয়। ওই সমাবেশস্থলে আফগানিস্তানে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত জেএমবির সদস্যদের সহযোগীতায় খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নির্দেশে জনসভায় গ্রেনেড, রিভলবারের গুলি ছুড়ে জননেত্রী শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশুন্য করার উদ্যোগ ও পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়। ১২ টি আর্জেস গ্রেনেড সভাস্থলে নিক্ষেপ করা হয়।আওয়ামী লীগ নেতারা মানববর্ম সৃষ্টি করে জননেত্রী শেখ হাসিনাকে জীবনে বাঁচাতে সক্ষম হলেও গ্রেনেড ও গুলির আঘাতে সমস্ত সভাস্থলটি মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়। ৫০০শত র ও অধিক নেতাকর্মী গুরুতরভাবে আহত হন।২৪ জন আওয়ামী লীগ নেতা ঘটনাস্থলে গুরুতরভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।মানুষের হাহাকারে সভাস্থলটি কারবালায় পরিণত হয়। বিএনপির পুরো শাসনকালে এই হত্যার বিচার তো হয়ই নাই, বিচারকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য নানা মিথ্যা প্রচারণা, সরকারের সকল রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে প্রচার করা হয়। দেশের অবস্থা যখন অবর্ণনীয় অধপতিত সেই অবস্থায় ২০০৬ সালে একটি জাতীয় নির্বাচন এলে ভোটারবিহীন নির্বাচন করে খালেদা জিয়া আর তার পুত্র রাষ্ট্রক্ষমতা নিজেদের করায়ত্ত করে। ব্যাপক জনবিক্ষোভের মুখে সেনাবাহিনীর তৎপরতায় এই পর্যায়ে অশাসন, কুশাসন থেকে দেশে একটি পরিবর্তন নিয়ে আসার কথা বলে সামরিক বাহিনী রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে। পরবর্তীতে ২০০৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত রাষ্ট্রচালনা করে এই সামরিক শাসকরা দেশে একটি নির্বাচনের ব্যবস্থা করে প্রকৃত ভোটার তালিকা তৈরী করে ও ১ কোটি ৩০ লক্ষ ভূয়া ভোট বাতিল করে দেয়।যার ফলে এতদকালের সবচেয়ে সচ্ছ একটি সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ও শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়।৫ বছরের মাথায় আরেকটি সাধারণ নির্বাচন এলে আওয়ামী লীগ সে নির্বাচনেও জয়লাভ করে।যদিও এই নির্বাচনে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপি নানা অজুহাত দেখিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকে।
আগামী নির্বাচনকে উপলক্ষ করে জননেত্রী শেখ হাসিনা দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসাবে সকল রাজনৈতিক দলের সাথে পরামর্শ ও আলাপ আলোচনা করে সকলকে নিয়ে একটি নির্বাচনের উদ্যোগ নিয়েছেন। জনগন এই উদ্যোগকে সর্বান্তকরনে স্বাগত জানাই। ইতোমধ্যে বিএনপি, গণফোরাম এবং আরো কিছু দল মিলে একটি ঐক্যফ্রন্ট গঠণ করে জননেত্রী শেখ হাসিনার সাথে একটি ফলপ্রসু বৈঠকে মিলিত হয়েছেন। প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিকল্পধারা ও সমমনা দলগুলো সন্তোষজনক আলোচনা সমাপ্ত করেছে। অতি শীঘ্রই জাতিীয় পার্টি ও বাম ঘরানার দলগুলোর সাথে আলোচনায় বসবেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলে জানা গেছে।অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে সকলের সাথে আলাপ আলোচনা করে সকলের মতামতকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েই জননেত্রী শেখ হাসিনার ভাষায় ‘ সবাই মিলে দেশটা গড়তে হবে’ এই নীতি অনুসরণ করে আগামীদিনের সরকার গঠণে একটি মহত উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। একটা সুন্দর পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছে এ পরিবেশটি আলোচনায় অংশগ্রহণকারী এক নেতার ভাষায় ‘জেতা হারার আলোচনা না’ ।
অতীতে মধ্যস্থতাকারী বিদেশীদের সহযোগীতা নিয়ে যত আলোচনা হয়েছে দুর্ভাগ্যজনক হলেও তার একটি ও সফল হয় নাই।  এখন যেহেতু দেশের রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের বিবেক, বিবেচনার উপর নির্ভর করে একটি উন্নত, প্রগতিশীল বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থানকে আমলে রেখে নির্বাচনে রাজনৈতিক সমাধানে অংশগ্রহণ করছেন তখন চারিদিকে আশার আলোর সুবাতাস বইছে।এই বাংলাদেশে সকল মানুষ যার যার, মত, পথ, চিন্তা ও বিশ্বাস নিয়েই বসবাসের যোগ্য করে তোলা রাজনীতিবিদদের মহান দায়িত্ব।আমাদের বিশ্বাস তারা যোগ্যতার সাথে তা পালন করে দেশবাসীর সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারবে। এখানে সকলকেই কিছু কিছু ছাড় দিতে হবে।মানবকল্যাণেরনীতি ও আদর্শকে সমুন্নত রেখে গত ১০ বছর জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকার যে বৈপ্লবিক পরিবর্তন দেশে নিয়ে এসেছে, তাকে এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব সকলের।জনগণের শাসন প্রতিষ্ঠার মূল লক্ষ্য অর্জনের তাগিদ নিয়েই সকল রাজনৈতিক দলকে ক্ষুধা দারিদ্র, অভাব অনটন মুক্ত একটি বাংলাদেশ সৃষ্টির প্রত্যয়কে সমুন্নত রাখতে হবে।
লুটেরা শ্রেণীর জন্য বাংলাদেশ অভয়ারন্য হতে পারেনা। বিদেশীদের প্ররোচনায় দেশের সম্পদ লুটপাট করে ব্যক্তি স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে জনগণের সম্পদ আত্মসাতকারীদের শাস্তি বিধান সকল রাজনৈতিক দলের দায়িত্ব ও কর্তব্য। সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে ব্যাপক জনগণের আস্থা ও নির্ভরশীলতাকে আয়ত্তে নিয়ে এসে রাজনৈতিক কর্মীদের নির্লোভভাবে দেশসেবায় নিয়োজিত হতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হতে হবে। আশা করি যে, দলীয় স্বার্থের উর্দ্ধে দাড়িয়ে, ব্যক্তিগত লোভ লালসাকে পরিত্যাগ করে, দেশবাসীকে নিয়ে একটি আধুনিক বাংলাদেশ গড়ার কাজে সকল দেশপ্রেমিক মানুষকে একত্রিত হওয়া সম্ভব হবে।
দেশের যুব সমাজ ও আগতদিনের সন্তানদের জন্য কর্মসংস্থান, জীবন জীবিকার ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করলে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধে জীবনদানকারী আমাদের পূর্বপুরুষদের স্বপ্ন সুখী, শান্তিময় ও সমৃদ্ধ দেশ হবে। আমাদের সম্পদ অপরিসীম।এই সম্পদের যথাযথ ব্যবহার করে দেশবাসীকে শান্তির জীবনের নিশ্চয়তা দিতে হবে। আজকের সামাজিক ও রাজনৈতিক নেতাদের সম্মিলিতভাবে কাজ করার যে সুযোগ বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগে নেয়া হয়েছে, সেই সুযোগকে লুফে নিয়ে, আসুন আমরা সকলে একত্রিত হয়ে দেশকে উন্নত দেশের পর্যায়ে নিয়ে আসি।আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা অবশ্যই জয়ী হবে।
লেখক : সুলতান মাহমুদ শরীফ
সভাপতি, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ।