লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের উদ্যোগে ‘ফেইক নিউজ এন্ড ট্রু নিউজ শীর্ষক আলোচনা

60

ওয়ানবাংলানিউজ: ফেইক নিউজ এন্ড ট্রু নিউজ-শিরোনামে এক বিশেষ টক অনুষ্ঠিত হলো লন্ডনের কুইনম্যারী ইউনির্ভাসিটির আর্টস ওয়ান হলে। লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের আয়োজনে এবং টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের সহযোগিতায় এতে মূখ্য আলোচক ছিলেন প্রবীন সাংবাদিক, দ্যা এশিয়ান এইজ এর এডিটর ইন চার্য ও সত্যবাণীর কন্ট্রিবিউটিং এডিটর সৈয়দ বদরুল আহসান।

মঙ্গলবার বিকেলে বিশেষ আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি সৈয়দ নাহাস পাশা। সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ জুবায়েরের পরিচালনায় এতে আরও বক্তব্য রাখেন সাংবাদিক শামসুল আলম লিটন। বাংলাদেশী সাংবাদিকরা ছাড়া কিছু মেইনস্ট্রিম অতিথিও প্রশ্ন-উত্তর এবং মন্তব্য পর্বে অংশ নেন।

সৈয়দ বদরুল আহসান বলেন, ফেইক নিউজ সংস্কৃতি শত-সহস্র বছর পুরোনো। বিশ্ব ইতিহাসের অনেক কংকজনক অধ্যায়ের সাথে ফেইক নিউজের সম্পর্ক ছিলো। তিনি বলেন, অবাধ তথ্য প্রবাহের সাম্প্রতিক এ ডিজিটাল যুগে কোন খবর যেমন লুকিয়ে রাখা কঠিন, ঠিক তেমনি এর সুযোগ নিয়ে ভূয়া খবর তৈরী ও প্রচারের মাধ্যমে সামাজিক, রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রিয় অস্থিরতা সৃষ্টির ঘটনাও ঘটছে অহরহ। তিনি বলেন, ভূয়া খবর তৈরী বা প্রচার শুধুই যে বাংলাদেশে ঘটছে বা ঘটেছে তা নয়, এই ব্যাধিতে সারা বিশ্বই আক্রান্ত। অতীতের ইতিহাসের সভ্যতা বিধ্বংসী কিছু ঘটনার উদাহরণ দিতে গিয়ে বাংলাদেশের প্রবীন এই সাংবাদিক বলেন, অপেক্ষাকৃত দুর্বল রাষ্ট্রগুলোর উপর নিজেদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠায় বিশ্বের শক্তিধর রাষ্ট্রগুলোর সামরিক হস্তক্ষেপের ক্ষেত্র সৃষ্টিতে ভূয়া নিউজ মূল ভূমিকা রেখেছে, ইতিহাসে এমন অহরহ ঘটনা রয়েছে। তিনি বর্তমানে বাংলাদেশের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের সমালোচনাও করেন। অনুুষ্ঠানে ফেইক নিউজের পাশাপাশি সত্য নিউজ প্রকাশে বাধা বা চাপ সৃষ্টির নেতিবাচক দিক নিয়েও আলোচনা করা হয়।বলা হয়, সত্য প্রকাশের যথার্থ সুযোগ থাকলে ফেইক নিউজের সৃষ্টি হবে কম।
অনুষ্ঠানে প্রেস ক্লাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট মাহবুব রহমান, ট্রেজারার আ স ম মাসুম, আটি সেক্রেটারী সালেহ আহমদ, ইসি মেমবার রহতম আলী ও পলি রহমাসহসহ আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

সৈয়দ বদরুল বলেন, ভিয়েতনামী নৌবাহিনী আমেরিকান যুদ্ধ জাহাজ আক্রমন করেছে এমন খবরে ১৯৬৪ সালে আমেরিকান প্রেসিডেন্ট লিন্ডন বেইন্স জনসন ভিয়েতনামের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষনায় কংগ্রেসের নিরঙ্কুশ অনুমোদন দিয়েছিলেন, যা পরবর্তীতে মিথ্যে প্রমানিত হয়। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশের ইরাক আক্রমন, ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশে দুর্ভিক্ষের প্রতীক হিসেবে বাসন্তীকে উপস্থাপন, ১৯৭৪ সালে শাহ আজিজুর রহমানকে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর ওআইসি সম্মেলনে গমন, ২০১৩ সালে বর্তমান বাংলাদেশ সরকারের আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে হাজারো হেফাজত কর্মী নিহত হওয়া এবং চাঁদে জামাত নেতা সাঈদীর অবয়ব দেখা, ইতিহাস সাক্ষি দেয়া এ সব ঘটনাই ছিলো ভূয়া খবর বা ফেইক নিউজ।

সম্প্রতি বাংলাদেশের একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি কর্তৃক সংবিধান প্রণেতা ড. কামাল হোসেনকে রাজাকার আখ্যা দেয়ার তীব্র সমালোচনা করে সৈয়দ বদরুল আহসান বলেন, একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি যদি এমন ভূয়া তথ্য উপস্থাপন করেন তাহলে ফেইক নিউজের প্রবাহ তো আরও অবাধ হবেই। বাংলাদেশের সাংবদিকদের রাজনৈতিক দলীয় আনুগত্য এবং ক্ষমতাসীনের তোষামোদীর সমালোচনা করেন সৈয়দ বদরুল আহসান। তিনি বলেন, রাজনৈতিক মতাদর্শ থাকতেই পারে, কিন্তু দলীয় আনুগত্যের কাছে পেশাগত স্বচ্ছতা যখন লোপ পেয়েযায় তখন ফেইক নিউজের মত ব্যাধিগুলো আরও সংক্রমিত হয়।

সৈয়দ বদরুল আহসানের মূল আলোচনার পর অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বাংলা টিভির সাবেক ডিরেক্টর সাংবাদিক শামসুল আলম লিটন। তিনি বলেন, তথ্য আদান প্রধানের অবাধ প্রবাহ যখন বাধাগ্রস্থ হয়, তখনই সৃষ্টি হয় ফেইক নিউজ তৈরীর ক্ষেত্র। ভূয়া নিউজের এই ব্যাধি মোকাবেলায় বাংলাদেশে মুক্ত সাংবাদিকতার অবাধ স্বাধীনতার উপর গুরুত্বারোপ করে লিটন বলেন, দলীয় আনুগত্য পিছনে ফেলে এ ইস্যুতে সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। তিনি বৃটেনে বৃকজিটের ক্ষেত্রে এনইচএসকে কেন্দ্রকরে ফেইক নিউজের উদাহরনও টানেন।
০০০০