আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করলো সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার

69

সিলেট সংবাদদাতা: অবশেষে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে নবনির্মিত সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার। বৃহস্পতিবার বেলা ১১ টায় গণভবন থেকে সিলেট জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২ হাজার বন্দির ধারণক্ষমতাসম্পন্ন নবনির্মিত এ কেন্দ্রীয় কারাগারের উদ্বোধন করেন।

এসময় দেশের ৫৬ টি জেলার মোট ৩২১ টি বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পও উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

উদ্বোধনকালে সিলেট জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে সিলেটের বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্য, প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দ, কারা কর্তৃপক্ষ, আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে ২২৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নবনির্মিত সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের উদ্বোধন হলেও এই মুহূর্তে বন্দি স্থানান্তর হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন সিনিয়র জেল সুপার আব্দুল জলিল।

সিনিয়র জেল সুপার বলেন, উদ্বোধন হলেও এখনই বন্দী স্থানান্তর হচ্ছে না। তবে অল্প কিছুদিনের মধ্যেই প্রশাসন এবং নিজেদের মধ্যে আলাপ আলোচনা শেষে বন্দী স্থানান্তর প্রক্রিয়া শুরু হবে।

এর আগে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ২০১০ সালে একনেকে পাস হয় সিলেটের নতুন কারাগার নির্মাণ ও স্থানান্তরের প্রকল্প। এরপর ২০১১ সালের ১১ই আগস্ট তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন ও অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত সিলেট শহরতলীর বাদাঘাটে কারাগারের নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

কারাসুত্র জানায়- মোট ৩০ একর জায়গার উপর নির্মিত এই কারাগারের ভেতরে-বাইরে রয়েছে সর্বমোট ৫৯টি স্থাপনা। এছাড়া আনুসাঙ্গিক সুযোগ সুবিধাসহ কারাগারে ২৫ শয্যার স্বতন্ত্র টিবি হাসপাতাল নির্মাণ করা হয়েছে। রয়েছে মেডিকেল স্টোর, ক্লথিং স্টোর, লিলেন স্টোর, স্টেরিলাইজেশন রুম, ল্যাবরেটরি, এক্স-রে রুম, রান্নাঘর, ২০ জন বন্দির অপেক্ষাকৃত মাইনর অপারেশন থিয়েটার, অবজারবেশন ওয়ার্ড, ১০০ শয্যার পুরুষ বন্দি হাসপাতাল এবং মহিলা ওয়ার্ডে ২০ শয্যার পৃথক আরো একটি মহিলা হাসপাতাল।

কারাসুত্র আরো জানায়- নবনির্মিত এই কারাগারে পুরুষ বন্দিদের ৪টি ভবনই ৬ তলাবিশিষ্ট আর নারী বন্দিদের জন্য নির্ধারিত ভবনের মধ্যে একটি ৪ তলা এবং দুটি দ্বিতল ভবন রয়েছে। রান্নার কাজের জন্য রয়েছে ৫টি ভবন, যার সবগুলোই ১ তলা। খাবার মজুত রাখার জন্য রয়েছে ৪টি ভবন, রয়েছে দোতলা একটি রেস্ট হাউসও। আরো রয়েছে ৪ তলাবিশিষ্ট একটি ডে কেয়ার সেন্টার, মসজিদ, স্কুল ও লাইব্রেরি।

প্রসঙ্গত, ২২৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিতব্য কারাগারটির নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০১৫ সালের জুন মাসে। এরপর তিন দফা মেয়াদ বাড়িয়েও চলতিমাস পর্যন্ত ৯০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বাকিটা শেষ হতে এখনো মাসখানেক লেগে যেতে পারে।