দিরাইয়ে মরহুম আব্দুস শহীদ চৌধুরী’র প্রথম মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

42

দিরাই সংবাদদাতা: দিরাইয়ের কৃতি সন্তান মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ও দিরাই উপজেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক, প্রবীণ রাজনীতি বিদ মরহুম আব্দুস শহীদ চৌধুরী’র প্রথম মৃত্যু বার্ষিকী নানান কর্মসূচির মাধ্যমে পালিত হয়েছে।
২দিন ব্যাপী কর্মসূচির মধ্যে ১ম দিন শুক্রবার তার নিজ এলাকার সকল মসজিদ ও দিরাই পৌর এলাকার সকল মসজিদ সমূহ এবং শাল্লা উপজেলার বিভিন্ন মসজিদে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ ২য় দিন শনিবার বিএনপি থানা রোডস্থ দলীয় কার্যালয়ে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
ছাত্রদল দিরাই কলেজ শাখার সভাপতি শাহিনুর রহমানের সঞ্চালনায় ও দিরাই পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি হুমায়ুন কবির তালুকদারের সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশ নেন জেলা যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক লিপন হাসান চৌধুরী, যুবদলের সহ কর্ম বিষয়ক সম্পাদক মহি উদ্দিন মিলাদ ও দিরাই উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আবু হাসান চৌধুরী সাজু সহ বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
মোনাজাত পরিচালনা করেন দিরাই মাদ্রাসার সাবেক মুহতামিম মাওলানা নাজিম উদ্দিন এছাড়াও স্থানীয় উলামায়ে কেরামের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শায়খ মাওলানা ছাদিকুর রহমান,মাওলানা আব্দুল হক,মাওলানা নাজিম উদ্দিন,মাওলানা ইসমাঈল আলী, মাওলানা আব্দুল্লাহ রাজী, মাওলানা আব্দুল লতিফ,মাওলানা,ফরিদ উদ্দিন, বিশিষ্ট মুরুব্বী আরজু মিয়া সহ এলাকার গন্য মান্য ব্যক্তিত্ব্যসহ দলীয় নেতৃবৃন্দ।

প্রসঙ্গতঃ– ২০১৭ সালের ২৭ অক্টোবর ব্রেইন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে তিনি লন্ডনের কিংস কলেজ হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন। তিনি দিরাই উপজেলার ঐতিহ্যবাহী তাড়ল গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে ১৯৪৮সালে জন্মগ্রহণ করেন। দিরাই উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাশের পর ১৯৬৫ সালে তিনি সুনামগঞ্জ কলেজে ভর্তি হন। ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতির মধ্যে দিয়ে তার রাজনৈতিক জীবন শুরু। ১৯৬৭ সালে পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের সভানেত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরীর উপস্থিতিতে সুনামগঞ্জ মহকুমা সম্মেলনে তিনি সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।
> পরবর্তীতে পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নাহিদ এর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে শহীদ চৌধুরীকে জেলা ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। ১৯৬৯-১৯৭০সালের সুনামগঞ্জ কলেজের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে শহীদ চৌধুরীর নেতৃত্বে ছাত্র ইউনিয়নের পূর্ণ প্যানেল বিজয় লাভ করে।
তিনি ছাত্র সংসদের ভিপি নির্বাচিত হন। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের আন্দোলনে তিনি সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের নেতৃত্ব দেন। তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণ করে অসামান্য অবদান রাখেন। স্বাধীনতা পরবর্তীতে তিনি ঢাকার সেন্ট্রাল ‘ল’ কলেজে এলএলবিতে ভর্তি হন কিন্তু পড়াশুনা শেষ না করে তিনি চীন, ইরাক, ইরান হয়ে জার্মানিতে চলে যান। ১৯৭৫ সালের পর তিনি দেশে ফিরেন। ১৯৭৭সালে জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় আসার পর জাগদল ও পরে বিএনপি গঠন করলে শহীদ চৌধুরী দিরাই শাল্লায় বিএনপি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন এবং দিরাই বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। এর পর তিনবার দিরাই উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও পরবর্তীতে সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। তিনি তিন পুত্র ও তিন কন্যা সন্তান রেখে মৃত্যুবরণ করেন। তার সকল সন্তানরা যুক্তরাজ্যে বসবাস করছেন। তার প্রথম সন্তান এডভোকেট তাহির রায়হান চৌধুরী পাভেল যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য।