বেথনালগ্রিন ও বো আসনে নির্বাচন : রুশনারা-আজমল যোগ্যতার বিচারে কে এগিয়ে

2608

ফরীদ আহমদ রেজা : টাওয়ার হ্যামলেটস’র বাঙালি ভোটারগণ খুব বিপদে আছেন। তারা ‎জেরমি করবিনকে ভালোবাসেন। ‎করবিনকে নিয়ে তারা অনেক স্বপ্ন ‎‎‎দেখেন। তারা চান, আগামী নির্বাচনে করবিন বিজয়ী হোন। করবিন ‎মানে ‎করবিনের নেতৃত্বে পরিচালিত লেবার পার্টি। করবিনহীন ‎‎লেবার পার্টির ‎কথা তারা ভাবতে পারেন না। ‎কিন্তু তারা কি জানেন, নির্বাচনে লেবার ‎পার্টি বিজয়ী হলেও করবিন যাতে প্রধানমন্ত্রী হতে ‎না পারেন সে ‎ষড়যন্ত্র ‎অনেক আগে থেকেই শুরু হয়েছে? তারা কি জানেন, তাদের ভোট পেয়ে ‎যারা ক্ষমতায় যান তারা ‎করবিনকে কতটুকু ‎পছন্দ করেন? তাদের ‎নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা যদি করবিনকে টেনে-হেঁচড়ে নেতৃত্ব ‎‎থেকে ‎সরিয়ে দেন তা হলে কী হবে? অতীতে তারা ‎‎সে চেষ্টা কম করেননি। ‎আগামীতেও তারা সে চেষ্টা ‎চালিয়ে যাবেন, এতে কোন সন্দেহ নেই। ‎

থেরেসা মে হঠাৎ করে ৮ই জুন নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করে সবাইকে ‎চমকে দিয়েছেন। রাজনৈতিক ‎অঙ্গন হতচকিত অবস্থা কাটিয়ে ‎আস্তে ‎আস্তে জেগে ওঠছে। নির্বাচনের আর মাত্র সাত দিন বাকি আছে। ‎‎বিলাতের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কেউ এখনো নিশ্চিত নয়, ‎‎নির্বাচনোত্তর বৃটেনের মানচিত্র কি রকম ‎হবে। মতামত জরিপ হচ্ছে এবং ‎আরো হবে। নির্বাচন ঘোষণার কারণ নিয়ে কথামালা কম রচিত ‎হচ্ছে ‎না। ‎সবার মুখে এক কথা। ব্রেক্সিট, ব্রেক্সিট এবং ব্রেক্সিট। কান টানলে মাথা ‎আসে। কিন্তু মাথা নিয়ে খুব ‎কম কথা হচ্ছে। ব্রেক্সিট ‎নিয়ে যারা খুব ‎উৎসাহী ছিলেন তারাও এখন ‘হায় হায়’ করছেন। টোরি সরকারের ‎ব্যয়-‎সংকোচন নীতির কারণে বিলাতের শিক্ষা, ‎‎স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপত্তা, উন্নয়ন, ‎বেনিফিট, চাকরি, বিনিয়োগ ‎প্রভৃতিসহ সকল ক্ষেত্রে চরম নৈরাজ্য বিরাজ ‎করছে। দোষ শুধু ব্রেক্সিট’র ‎নয়। ব্রেক্সিট শুধু কাটা ঘায়ে ‎‘নুনের ছিটা’ ‎দিয়েছে মাত্র। ‎

মানুষের পেটে লাথি দিয়ে ক্ষমতায় থাকা যায় না। কিন্তু টোরি সরকার ‎পারছে। কেন পারছে, সেটা নিয়ে ‎ভাবা দরকার। টোরি পার্টির ‎‎রাজনৈতিক কৌশল চমৎকার। ব্যাপারটা এ রকম। এক লোক রাস্তায় ‎হোঁচট ‎‎খেয়ে পড়ে গেছে। কেউ দেখার আগে গড়াগড়ি দিয়ে সে ‎রাস্তার ‎এক পাশে গিয়ে বসে পড়ে। তারপর ‎ফ্লাক্স বের করে ধীরেসুস্থে চা পান ‎করতে থাকে। ভাবখানা এমন, সে হোঁচট খায়নি, বরং চা ‎খাওয়ার ‎জন্যে ‎বসেছে।

বিলাতের রাজনৈতিক ইতিহাসে জেরমি করবিন এক ব্যতিক্রমধর্মী নেতা। ‎করবিন যাতে লেবার পার্টির ‎‎নেতা না হতে পারেন সে জন্যে ‎তাঁর বিরুদ্ধে ‎চতুর্মুখি আক্রমণ হয়েছে। কারণ জেরমি করবিন রাজনীতির ‎কারণে বা ‎ক্ষমতায় যাওয়ার জন্যে রাজনীতি করেন না। সদ্য-‎‎ঘোষিত নির্বাচনী ‎ইশতেহার পাঠ করলে ‎আমরা বুঝতে পারি, কেন করবিন চরম ডান, মধ্য ‎ডান এবং ভূয়া বামদের চক্ষুশূল। ইশতেহারে ‎তিনি টনি ‎‎ব্লেয়ার প্রবর্তিত ‎টিউশন ফি বাতিল, গুরুত্বপূর্ণ সেবামূলক প্রতিষ্ঠান সরকারীকরণ এবং ‎যুদ্ধনীতি পরিহারের ‎‎ঘোষণা দিয়ে বিশ্বব্যাপী ‎আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন। ‎তবে দলের জন্যে সবচেয়ে মারাত্মক হচ্ছে আস্তিনের ‎‎ভেতর বসবাসকারী ‎সাপ। কেন্দ্র থেকে সাধারণ পর্যায় ‎পর্যন্ত লেবার পার্টির অভ্যন্তরে এমন ‎অনেক আছেন ‎যারা করবিনকে মোটেই পছন্দ করেন না। তারা কেউ টনি ‎ব্লেয়ারের অনুসারী, কেউ দিবাস্বপ্নে বিভোর। ‎‎কেউ কেউ যে গাছের আশ্রয়ে ‎এবং ফল খেয়ে ‎‎বেঁচে আছেন সে গাছটিকে তারা কেটে ফেলতে চান। ‎লেবার ‎পার্টির গণমুখি নীতি যদি তাদের পছন্দ না হয় তা হলে তারা ‎টোরি পার্টিতে ‎চলে যেতে পারেন। ‎

নির্বাচনী আমেজ বাঙালি পাড়ায়ও দেখ যাচ্ছে। লন্ডনের টাওয়ার ‎হ্যামলেটস এলাকা বাঙালি পাড়া হিসেবে ‎খ্যাত। জেনে রাখা ভালো, ‎টাওয়ার হ্যামলেটস বরা বাঙালি অধ্যুষিত হলেও বাঙালি জনগোষ্ঠী এখানে ‎‎সংখ্যাগুরু নয়। এখানে দুটো নির্বাচনী এলাকা। একটি পপলার এন্ড ‎লাইম হাউস এলাকা এবং অপরটি ‎‎বেথনালগ্রিন এন্ড বো। ২০১১ সালের ‎আদমশুমারী অনুসারে বেথনালগ্রিন এন্ড বো নির্বাচনী ‎এলাকার ‎বাসিন্দাদের ‎‎শতকরা ৪১.৯ ভাগ সাদা এবং দ্বিতীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ এথনিক কমিউনিটি ‎বাংলাদেশী। বাঙালি ‎‎ভোটারদের ‎সংখ্যা সেখানে শতকরা ৩৩.৬ ভাগ মাত্র। ‎এ আসনে একজন বাঙালি এমপি পাওয়ার স্বপ্ন ‎আমরা অনেক দিন ‎‎‎দেখেছি। পিটার শোর, উনা কিং, জর্জ গ্যালওয়ে পার হয়ে শেষ পর্যন্ত ‎২০১০ সালে ‎এসে রুশনারা আলী ‎বৃটিশ পার্লামেন্টে প্রথম বাঙালি এমপি ‎হিসেবে নির্বাচিত হন।

২০১৫ সালের নির্বাচনে ‎পূনরায় রুশনারা ‎আলী ‎বিপুল ভোটাধিক্যে নির্বাচিত হন। সে সময় রুশনারা আলী পান শতকরা ‎৬১ ভাগ ‎‎ভোট। আর তাঁর ‎নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী টোরি পার্টির ম্যাট স্মিথ’র ‎ভোট ছিল মাত্র শতকরা ১৫ ভাগ। এ কথা ‎বলা যায়, ২০১৫ সালের ‎নির্বাচনে রুশনারা আলীকে কোন প্রকার প্রতিরোধের মুখোমুখি হতে ‎হয়নি। কিন্তু ‎আসন্ন ৮ই জুনের ‎নির্বাচন রুশনারা আলীর জন্যে কঠিন ‎চ্যালেঞ্জ নিয়ে এসেছে। কারণ ২০১৫ সালে ‎রুশনারা আলীর ‎নিকটতম ‎প্রতিদ্বন্দ্বী আজমল মাসরুর একই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নিজের ‎নাম ‎‎ঘোষণা করেছেন। ‎‎দুটো সাংবাদিক সম্মেলন, সাধারণ সভা, ‎গণসংযোগ, প্রিন্ট-ইলেকট্রনিক প্রচারণা ‎ইত্যাদির মাধ্যমে ‎আজমল মাসরুর ‎ইতোমধ্যে ভোটারদের সামনে চলে এসেছেন।

প্রথম বাঙালি এমপি এবং দু দু বার নির্বাচিত হবার কারণে নির্বাচনী মাঠে ‎রুশনারা আলীর অবস্থান মোটেই ‎‎‎দুর্বল নয়। সাধারণ মানুষের জন্যে তাঁর ‎কাছে পৌঁছা কঠিন হলেও মানুষ তাঁর নাম জানে এবং টেলিভিশনে ‎‎তাঁকে ‎দেখা যায়। পার্লামেন্টে বাজেট এবং হিজাব নিয়ে দেয়া তাঁর বক্তব্য মানুষ ‎পছন্দ করেছে। কিন্তু ‎‎এলাকার বাসিন্দাদের প্রয়োজন মেটাতে তাঁর সাফল্য ‎কতটুকু? সাধারণ মানুষ কী তাঁর সাথে দেখা করতে ‎‎পারে? গত দু ‎নির্বাচনী সেশনে মোট কতজন লোক তাঁর সেবা পেয়েছে? বেথনালগ্রীন ও ‎বো এলাকায় তাঁর ‎‎কয়টা সার্জারি আছে? মাসে কয়দিন তিনি সেখানে ‎উপস্থিত থাকেন? একজন নির্বাচিত এমপিকে ‎‎‎ভোটারদের এ সকল প্রশ্ন ‎করার অধিকার আছে।

টাওয়ার হ্যামলেটস বরার নির্বাচিত মেয়র ছিলেন লুৎফুর রহমান। জনগণ ‎ভোট দিয়ে তাঁকে নির্বাচিত ‎‎করেছিল। ডানপন্থী মিডিয়া তাঁর বিরুদ্ধে ‎অব্যাহত কুৎসা রচনা করেও নির্বাচনে তাঁকে আটকাতে পারেনি। ‎‎শেষ ‎‎পর্যন্ত আদালতের খড়গ দিয়ে তাঁকে অপসারণ করা হয়েছে। লুৎফুর ‎রহমান মেয়র থাকলে টাওয়ার ‎হ্যামলেটস ‘ইসলামিক স্টেইট’ হয়ে যায় ‎আর জন বিগস হলে সেকুলার চরিত্র বজায় থাকে – এ ধরণের ‎‎কেচ্ছা ‎মানুষকে গিলানো হয়েছে। জনগণের নির্বাচিত এমপি হিসেবে রুশনারা ‎আলী তখন একটা বলিষ্ঠ ‎ভূমিকা রাখতে পারতেন। তিনি তখন নিরব ‎দর্শকের ভূমিকা পালন করেছেন। টাওয়ার হ্যামলেটস ‎এলাকার যারা ‎লুৎফুর রহমানের নিকট থেকে সেবা ও সহযোগিতা পেয়েছে তারা ‎রুশনারা আলীর তখনকার ‎ভূমিকা অবশ্যই মনে রেখেছে। ‎

আজমল মাসরুরের পরিচিতি টাওয়ার হ্যামলেটসে সীমাবদ্ধ নয়। লেখক, ‎ইমাম, বক্তা, সংগঠক এবং ‎‎টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব হিসেবে তিনি দেশে-‎বিদেশে সুপরিচিত। ২০১০ সালের নির্বাচনে তিনি দশ হাজারের ‎‎চেয়ে ‎বেশি ভোট পেয়েছেন। সে সময় একই এথনিক কমিউনিটির আরো দু ‎জন প্রার্থী থাকায় ভোট ‎ভাগাভাগি হয়েছে। এবার লড়াই হবে সরাসরি ‎রুশনারা আলী এবং আজমল মাসরুর – এ দু জনের মধ্যে। ‎‎দু জনই ‎বাঙালি এবং মুসলমান। তাই ভোটারদের এ নিয়ে কোন দ্বন্দ্বে পড়তে ‎হবে না। ‎

রুশনারা আলীকে ভোট না দিয়ে ভোটাররা কেন আপনাকে ভোট দেবে, ‎সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের জবাবে ‎আজমল মাসরুর বলেন, ‘আমাকে এ ‎কারণে ভোট দেয়া উচিত যে আমার সাথে মানুষ সহজেই দেখা ‎করতে ‎পারবে। রুশনারা আলী মাসে দুটো অনিয়মিত সার্জারি করেন, প্রায়ই তা ‎বাতিল হয়ে যায়। আমার ‎মাসে ৪টি সার্জারি থাকবে। এর সাথে থাকবে ‎মোবাইল ও পপ-আপ সার্জারি।’‎

আজমল মাসরুর আরো বলেন, ‘রুশনারা আলী জেরমি করবিনের লেবার ‎পার্টিকে সমর্থন করেন না। ‎রুশনারা জেরমি করবিনের বিরুদ্ধে ‘নো ‎কনফিডেন্স মোশনে’ স্বাক্ষর দিয়েছেন। এ এলাকার জন্য এমন ‎এমপি ‎দরকার যিনি সামাজিক সাম্য, ন্যায়বিচার, মানবাধিকার, সম্পদের ‎সুসমবন্টন, কল্যাণরাষ্ট্রে বিশ্বাস ‎করেন। চিকিৎসা-সেবা রক্ষা করতে চান ‎এবং শিক্ষাখাতে ন্যায়সঙ্গত ফান্ডিং নিশ্চিত করতে চান।’ ‎

টাওয়ার হ্যামলেটস মেয়র প্রসঙ্গে আজমল মাসরুর বলেন, ‘একজন ‎স্বতন্ত্র এমপি হিসেবে আমি মেয়রের ‎জনস্বার্থ বিরোধী পদক্ষেপের ‎সমালোচনা বলিষ্ঠভাবে করতে পারবো, যা করা দলীয় এমপি হবার ‎কারণে ‎রুশনারা আলীর পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না।’ ‎
আজমল মাসরুর দাবি করেন, এ বরায় আমি গত ২০ বছর থেকে আছি ‎এবং কাজ করছি। শেডওয়েল ‎এলাকায় আমি ২০ বছর বাস করেছি। ‎এখানকার প্রাইমারী এবং সেকেন্ডারী স্কুলে আমি পড়েছি। এখানে ‎আমার ‎ব্যবসা এবং কমিউনিটি প্রজেক্ট ছিল। এলাকার সুখ-দুঃখ এবং সুবিধা-‎অসুবিধার কথা আমি ভালো ‎ভাবেই অবহিত আছি। ‎

বিভিন্ন জনমত জরিপে এটা ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে, ৮ই জুনের ‎নির্বাচনে টোরি বা লেবার কোন পার্টি ‎সরকার গঠনের মতো সংখ্যা ‎গরিষ্ঠতা লাভ করতে পারবে না। সুতরাং লেবার পার্টি সরকার গঠন ‎করবে, ‎এটা ভাবা যায় না। তবে তাদের আসন সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে। ‎

আজমল মাসরুর ইতোমধ্যে প্রচারণার দিক থেকে রুশনারা আলীর চেয়ে ‎এগিয়ে আছেন। শোষণ- ‎নির্যাতন এবং ইসলামোফবিয়ার বিরুদ্ধে ‎অবস্থানের কারণে ভোটারদের কাছে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। ‎প্রশ্ন ‎হচ্ছে, বাঙালি এমপি আমরা কেন চাই? এটা কি নিছক গর্ব বা অহঙ্কারের ‎বিষয়? আমরা জানি বাঙালি ‎অধ্যুষিত ইস্ট লন্ডন এলাকা হাজারো সমস্যায় ‎জর্জরিত। আমাদের ছেলেরা এমন সব স্কুলে যায় যেখানে ‎পর্যাপ্ত ‎শিক্ষাসামগ্রী পাওয়া যায়না, আমরা নিম্নমানের ঘরে গাঁদাগাদি করে বসবাস ‎করি, আমাদের চাকরির ‎সুযোগ-সুবিধা পর্যাপ্ত নয়, আমরা চিকিৎসার ‎ইমার্জেন্সী সুযোগ থেকেও বঞ্চিত। অনেকে মনে করেন ‎বাঙালীর ভোট ‎আমাদের রিজার্ভ ভোট, এখানে কেউ ভাগ বসাতে পারবেনা।

আমাদের ‎নিজেদের ‎প্রয়োজনেই আসন্ন নির্বাচনে আমাদের প্রমাণ করতে হবে যে ‎আমরা কোন দলের নয়, বরং কমিউনিটির ‎‎স্বার্থই আমাদের কাছে বড় ‎প্রশ্ন। কাউকে ভোট প্রদানের অঙ্গীকার দেয়ার আগে আমাদের সামাজিক, ‎‎অর্থনৈতিক এবং শিক্ষাক্ষেত্রে বিরাজমান সমস্যাবলী সমাধানের অঙ্গীকার ‎আদায় করা প্রয়োজন। বাঙালী ‎এবং বৃহত্তর মুসলিম কমিউনিটির স্বার্থের ‎কথা চিন্তা করে আমাদের কর্মকৌশল নির্ধারণ করা দরকার। ‎আমাদের ‎স্বার্থ যারা দেখেনা, আমাদের মতামতের যারা তোয়াক্কা করেনা আমরা ‎কেন তাদের ভোট দেব? ‎

শুধু বাঙালি বা মুসলমান হবার কারণে কাউকে বাছাই করলে চলবে না। ‎যোগ্যতার বিচার করতে হবে। ‎আমরা এমন প্রার্থী বাছাই করবো যিনি ‎আমাদের কথা পার্লামেন্টে বলিষ্ঠ ভাবে তুলে ধরতে পারবেন। ‎আমরা ‎এমন একজন এমপি চাই যার ব্যাপারে আমরা গর্ব করতে পারব। আমরা ‎এমন এমপি চাই যিনি ‎বিলাতে বসবাসরত বাঙালি কমিউনিটির সাথে ‎চলাফেরা করেন, যার আমাদের সমস্যার ব্যাপারে বাস্তব ‎অভিজ্ঞতা রয়েছে ‎এবং যার মধ্যে কমিউনিটির অধিকার আদায়ের যোগ্যতা এবং দক্ষতা ‎রয়েছে। ‎আমার ভোট আমি দেব, তবে যোগ্য প্রার্থীকে দেব। আমরা ‎দেখবো রুশনারা আলী না আজমল, যোগ্যতার ‎বিচারে কে এগিয়ে? আমরা ‎এমন প্রার্থীকে ভোট দেব যিনি বৃটিশ পার্লামেন্টে কথা বলে আমাদের ‎অধিকার ‎আদায় করার সাথে সাথে বিশ্বসভায় বাঙালির মুখ উজ্জল করতে ‎পারেন। ‎
ফরীদ আহমদ রেজা :
লন্ডন, ৩১ মে ২০১৭

সূত্র: জনাব ফরীদ আহমদ রেজা’র ফেইসবুক থেকে নেয়া হয়েছে।