ব্রিটেনে ইলিগ্যাল রেস্টুরেন্ট ওয়ার্কারদের বৈধতা দিতে কাজ করছে বিসিএ

বিসিএ অ্যাওয়ার্ডসের একযুগ পূর্তি, জমকালো আয়োজনে শেফ ও রেস্টুরেন্টার্সদের সম্মাননা প্রদান

37501

ওয়ানবাংলানিউজ: যুক্তরাজ্যে বেকার হয়ে বসে থাকা হাজার হাজার স্কিল ইলিগ্যাল রেস্টুরেন্ট ওয়ার্কারদের বৈধতা দিতে ব্রিটিশ সরকারের প্রতি আহবান জানিয়েছেন বাংলাদেশ ক্যাটারার্স এসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট মোস্তফা কামাল ইয়াকুব। তিনি গত ১৯ নভেম্বর বিসিএ আয়োজিত এওয়ার্ড ওয়ানবাংলানিউজকে দেয়া এক স্বাক্ষাতকারে একথা বলেন। তিনি বলেন, রেস্টুরেন্টে স্টাফ সংকট দূর করতে এসকল স্কিল ওয়ার্কাররা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন। তিনি বলেন, আমরা ব্রিটিশ সরকারকে নানানভাবে চাপ দিয়ে যাব এসকল ওয়ার্কার যারা বেকার হয়ে বসে আছেন তাদেরকে যেন আবারো কাজে ফেরানো যায়।

এদিকে সংগঠনের জেনারেল সেক্রেটারী ওলি খান বলেন, অল্প কয়েকদিনের মধ্যেই হোম সেক্রেটারীর সাথে বিবিএ নেতৃবৃন্দ বৈঠক হবে। সেখানে স্টাফ সংকটের কথা তুলে ধরা হবে। সাথে সাথে দেশ থেকেও যাতে স্কিল শ্রমিক আনা যায় সে ব্যাপারে আলোচনা হবে।
তিনি বলেন, রেস্টুরেন্ট সেক্টেরে বর্তমানে প্রধান সমস্যা হচ্ছে স্টাফ সংকট। তাই সমস্যা সমাধান ও সরকার চাপে রাখতে ট্রাফলগার স্কয়ারে সমাবেশ করা হবে বলে তিনি জানান।

এদিকে সাফল্যের একযুগ পারলো বাংলাদেশী কমিউনিটির শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ ক্যাটারার্স এসোসিয়েশন (বিসিএ) অ্যাওয়ার্ড ও গালা ডিনার অনুষ্ঠান। গত ১৯ নভেম্বর রোববার সেন্ট্রাল লন্ডনের অভিজাত হোটেল পার্ক প্লাজায় জমকালো আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় চলতি বছরের আসর । এতে যোগ দেন, ব্রিটিশ মিনিস্টার, শ্যাডো মিনিস্টার, এমপি, লর্ডস, বিভিন্ন বরা কাউন্সিলের মেয়র, কাউন্সিলার, শীর্ষ ব্যবসায়ী, সেলিব্রেটি শেফ, কমিউনিটি সংগঠনের প্রতিনিধিসহ সারা দেশ থেকে আসা সফল ক্যাটারার্সরা।

সেলিব্রেটি প্রেজেন্টার তাসনিম লুসিয়া খান ও এলেক্স কনরানের প্রানবন্ত উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে শুরুতই স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিসিএর এওয়ার্ড কমিটির আহবায়ক ফজল উদ্দিন। এরপর বক্তব্য রাখেন বিসিএ‘র নব নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মোস্তফা কামাল ইয়াকুব ,সেক্রেটারী জেনারেল সেলিব্রটি শেফ ওলি খান, চীফ ট্রেজারার সাইদুর রহমান বিপুল। পরে বছরের সেরা কারী হিরোদের হাতে তুলে দেওয়া হয় বিসিএ অ্যাওয়ার্ডস। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে অংশ নিয়ে বিসিএ রেস্টুরেন্ট অব দ্য ইয়ার ও শেফ অব দ্য ইয়ার অ্যাওয়ার্ড বিজয়ীদের হাতে ক্রেস্ট ও সাটিফিকেট তুলে দেন শ্যাডো ব্রেক্সিট সেক্রেটারী স্যার কিয়ার স্টারমার, সাবেক ডিফেন্স সেক্রেটারী স্যার মাইক পেনিং এমপি,বিজনেস আন্ডার সেক্রেটারী রিচার্ড হারিংটন এমপি, রোশানারা আলী এমপি, এমপি রুপা হক, পল স্ক্যালি এমপি, স্টিফেন টিমস এমপি, এন্ড্রো স্টিফেনসন এমপি, জো স্টিভেনসন এমপি, নিয়া গ্রিফিত এমপি, রোথ ক্রেনবারী এমপি, এ্যান মেইন এমপি, কারেন বাক এমপি, সীমা মালহোত্রা এমপি, লর্ড শেইখ, রামি রেঞ্জার্স সিবিই, লন্ডনে বাংলাদেশের হাইকমিশনার নাজমুল কাওনাইন, চ্যানেল এস‘র চেয়ারম্যান আহমেদ উস সামাদ চৌধুরী জেপি, ফাউন্ডার মাহি ফেরদৌস জলিল, এটিএন বাংলা ইউকের সিইও হাফিজ আলম বক্স, এনটিভি ইউরোপের সিইও সাবরিনা হোসাইন, বিসিএর সাবেক প্রেসিডেন্ট বজলুর রশিদ এমবিই, সাবেক প্রেসিডেন্ট পাশা খন্দকার, সাবেক সেক্রেটারী জেনারেল এম এ মুনিম ও ব্রিটেনের বিভিন্ন বারার মেয়র ও কাউন্সিলারসহ স্পন্সর প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।

মোট তিন ক্যাটাগরিতে দেওয়া অ্যাওয়ার্ডের মধ্যে ১১ জনকে বিসিএ শেফ অব দ্যা ইয়ার অ্যাওয়ার্ডস, আরো ১১ জনকে বিসিএ রেস্টুরেন্ট অব দ্যা ইয়ার অ্যাওয়ার্ডস এবং কারী শিল্পে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরুপ চলতি বছর ওনার অব দ্যা ইয়ার প্রদান করা হয়েছে ক্যানারি ওয়ার্ফ গ্রুপের কমিউনিটি এফেয়ার্স জাকির খান, রুপা হক এমপি ও পল স্কালি এমপিকে।
অনুষ্ঠানে আগত বৃটিশ এমপি, লর্ডস ও মূলধারার রাজনীতিবিদ সকলেই বলেছেন, কারী শিল্পের সংকট সমাধানে তারা আন্তরিক। সরকারকে এ ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করে যাওয়ার অঙ্গিকার করেন। কঠোর ইমিগ্রেশন নীতি, ভিএটি বৃদ্ধি, স্টাফ সংকটসহ নানা সমস্যার একটি যথাযোগ্য সমাধান নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে একযোগে কাজ করার আহবান জানান তারা।

কারী শিল্পের নানা সমস্যা ও সম্ভাবনার চিত্র তুলে ধরে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিসিএ‘র প্রেসিডেন্ট কামাল ইয়াকুব। বলেন, বাংলাদেশীরা শেফদের নিয়ে আমরা গর্বিত। তারা ব্রিটেনে বেড়ে উঠা নতুন প্রজন্মের প্রেরনা হিসেবে কাজ করছেন। কঠোর পরিশ্রমী এসব শেফদের কাজ ও মেধার স্বীকৃতি দিতেই আমাদের অ্যাওয়ার্ড আয়োজন। তিনি সরকারের প্রতি আহবান জানান, কারী শিল্পের সংকটটিকে অর্থনৈতিক সংকট হিসেবে বিবেচনা করতে।

সেক্রেটারী জেনারেল অলি খান বলেন, কারী শিল্পের শীর্ষ সংগঠন হচ্ছে বিসিএ। আর এই শিল্পের অস্কার হচ্ছে- বিসিএ অ্যাওয়ার্ড। কারী শিল্পকে সম্মানের একটি স্থানে নিয়ে যেতে, পেছন থেকে অবদান রেখেছেন শেফ ও রেস্টুরেন্ট স্টাফরা। তাদের প্রতি অসীম কৃতজ্ঞা।

ইন্ডিয়ান কারীকে ন্যাশনাল ডিশ হিসেবে ধরে রাখতে অবদান রাখছেন রেস্টুরেন্টের শেফরা- বললেন চীফ ট্রেজারার সাইদুর রহমান বিপুল।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে বক্তব্য রাখেন বিসিএর নবনির্বাচিত সাংগঠনিক সম্পাদক মিঠু চৌধুরী ।

উল্লেখ্য বিসিএর ১২তম এওয়ার্ডকে সামনে রেখে বেশকয়েকটি উপকমিটি প্রায় ৬মাস ব্যাপী নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে কাজ করে। বিসিএর সিনিয়র সহ-সভাপতি ফজল উদ্দিনকে উৎসব কমিটির আহবায়ক,মিঠু চৌধুরীকে রেষ্টুরেন্ট অব দি ইয়ার কমিটির প্রধান,সেলিব্রিটি শেফ আতিক রহমানকে ,শেফ অব দিইয়ার কমিটির প্রধান,প্রেস সেক্রেটারী ফরহাদ হোসেন টিপুুকে ম্যাগাজিন সাব কমিটির প্রধান,বিসিএর যুগ্ম চীফ ট্রেজারার এম ফয়জুল হককে স্পন্সর নেগোসিয়েশন সাব কমিটির প্রধান,মেম্বারশীপ সেক্রেটারী সাইফুল আলমকে,লটারী উপকমিটির প্রধান,সাংস্কৃতিক সম্পাদক নাসির উদ্দিনকে সাংস্কৃতিক উপকমিটির প্রধান করে সাব কমিটি গুলো অনুষ্ঠান সাবির্ক সফলের লক্ষে কাজ করে

এ বছর রেস্টুরেন্ট অব দি ইয়ার হয়েছেন ইষ্ট অব ইংল্যান্ড রিজিয়ন-২ তে নাজমুল হক নাজ, রাজপূত রেষ্টুরেন্ট ,সাউথ ইষ্ট রিজিয়ন-৩ তে আহসানুল হক দি শাহীন রেষ্টুরেন্ট ,সাউথ ইষ্ট রিজিয়ন৫এ সানু মিয়া ,টারমারিক গোল্ড রেষ্টুরেন্ট,সাউথ ইষ্ট রিজিয়ন২ তে শাহিদুর রহমান, কারী গার্ডেন রেষ্টুরেন্ট ,ইষ্ট অব ইংল্যান্ড রিজিয়ন ৩ তে খসরু মিয়া , কারী প্লেইস রেষ্টুরেন্ট ,সাফোকের আব্দুস শহিদ, দি কানেকশন রেষ্টুরেন্ট ,হার্ডফোর্ডশায়ারের সিদ্দিকুর রহমান জয়নাল ,রাজ গার্ডেন রেষ্টুরেন্ট ,ডারহামের সুমেদ আহমদ, ডিউক বোম্বাই ক্যাফে রেষ্টুরেন্ট ,ব্ল্যাকবার্নের মোহাম্মদ আলী সাজু, শাহজাহান রেষ্টুরেন্ট ,ব্রিস্টলের মিজানুর রহমান ,পাপরিকা রেষ্টুরেন্ট ,স্টকপোর্টের মহিদ মিয়া ,আপ্যায়ন রেষ্টুরেন্ট ।

২০১৭ সালের শেফ অব দি ইয়ার হচ্ছেন কেন্টের জামাল উদ্দিন আহমদ, সাজনা রেষ্টুরেন্ট ,ওয়েস্ট উইকামের সাব্বির আহমদ,ইন্ডিয়ান ডিনার রেষ্টুরেন্ট ,নর্টন স্টক অন টীজের আজিজুর রহমান ,জলসা, ডারলিংটনের মহন ব্রায়ান মিয়া ক্যাফে স্পাইস ,নিউপোর্টের জাহাঙ্গীর আহমদ,হাতি ইন্ডিয়ান কুজিন,সেইগফিল্ডের আলী হোসাইন ,ইষ্ট ইন্ডিয়া,লন্ডনের মুহিদুর রহমান ,বেঙ্গল ল্যান্সার,সারের আনোয়ার হোসেন ,রাজপূত তান্দুরী,হাফওয়ে কেন্টের আনসার আলী,মিস্টার ইন্ডিয়া রাজপূত তান্দুরী,হাফওয়ে কেন্টের আনসার আলী,মিস্টার ইন্ডিয়া রেষ্টুরেন্ট।
অনুষ্ঠানের চ্যারিটি পার্টনার ছিলো ব্রিটিশ এশিয়ান ট্রাষ্ট।