অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিন রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করছে ভারত?

196

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সেরাম ইনস্টিটিউট কর্তৃক ভারতে উৎপাদিত অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রোজেনকার করোনা ভ্যাকসিন রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে পারে ভারত। মঙ্গলবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম এপি-র সঙ্গে আলাপকালে এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন সেরাম ইনস্টিটিউটের সিইও আদর পুনাওয়ালা।

আদর পুনাওয়ালা জানান, ভারতে নতুন করোনাভাইরাসের সংক্রমণ কমলে তার প্রতিষ্ঠান আগামী জুন নাগাদ ফের অক্সফোর্ডের টিকা রফতানির সুযোগ পাবে। তবে সংক্রমণ ধারাবাহিকভাবে বাড়তে থাকলে এক্ষেত্রে আরও বিলম্ব হতে পারে। কেননা, সেরাম ইনস্টিটিউটকে আগে ভারতের ঘরোয়া চাহিদা পূরণ করতে হবে।

তিনি বলেন, তার প্রতিষ্ঠান দুই মাসের জন্য অস্থায়ীভাবে ভারতকে অগ্রাধিকার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এরপর থেকে তারা ফের রফতানি কার্যক্রম শুরুর ব্যাপারে আশাবাদী।

আদর পুনাওয়ালা বলেন, ভারতে সংক্রমণের তীব্রতা যদি না কমে সেক্ষেত্রে সম্ভাব্য যে পরিস্থিতির উদ্ভব হবে সেটি নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন। সেক্ষেত্রে শুধু ভারতে সরবরাহ চালিয়ে যেতে হবে, অন্য কোথাও নয়। কারণ আগে দেশকে বাঁচাতে হবে।

সেরাম ইনস্টিটিউটের সিইও স্বীকার করেছেন, অন্যান্য দেশে ভ্যাকসিন সরবরাহের জন্য তাদের ওপর ‘চুক্তিগত বাধ্যবাধকতা’ রয়েছে। এ ব্যাপারে তিনি বিভিন্ন দেশের প্রেসিডেন্টদের কাছ থেকে ফোন কলও পাচ্ছেন।

আদর পুনাওয়ালার ভাষায়, ‘আমাকে বিনীতভাবে সবার কাছে পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করতে হয়েছে।’ বেশিরভাগ রাষ্ট্রপ্রধানই বিষয়টি অনুধবান করতে পারছেন বলেও জানান তিনি।

২০২১ সালের ২৫ মার্চ থেকে সেরাম ইনস্টিটিউট কর্তৃক উৎপাদিত অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রোজেনকার করোনা ভ্যাকসিন রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ভারত। দেশটির অভ্যন্তরীণ ভ্যাকসিন চাহিদা বিবেচনায় ওই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) করোনাভাইরাসের টিকা বিতরণ কর্মসূচি কোভ্যাক্স প্রকল্পের আওতায় ১৯০টি দেশে ভারত থেকে অক্সফোর্ডের টিকা পাঠানোর কথা ছিল। এর আওতায় বাংলাদেশেরও এক কোটি ৯ লাখ আট হাজার ডোজ ভ্যাকসিন পাওয়ার কথা। এই উদ্যোগের মাধ্যমে ২০২১ সালের শেষ নাগাদ দুনিয়াজুড়ে ২০০ কোটি ডোজ টিকা বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে ভারত ভ্যাকসিন রফতানি স্থগিত করায় যথাসময়ে ওই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে সংশয় তৈরি হয়।