টাওয়ার হ্যামলেটেস বিধি লঙ্ঘনকারী ল্যান্ডলর্ডদের কাছ থেকে ২ লাখ পাউন্ড ভাড়ার অর্থ পুণরুদ্ধার

806

ওয়ানবাংলানিউজ ডেস্ক: যেসকল বাড়ির মালিক বিধি লঙ্ঘন করেছেন, তাদের কাছ থেকে ভাড়া হিসেবে প্রদানকৃত অর্থ ফেরত পেতে প্রাইভেট ভাড়াটিয়াদেরকে সাহায্য করার জন্য টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল একটি উদ্ভাবনী প্রকল্প চালু করেছে।

রেন্ট রিপেমেন্ট অর্ডার (পিআরও) এর আওতায় এ পর্যন্ত ২ লাখ পাউন্ডেরও বেশি অর্থ ভাড়াটিয়া বা টেনেন্টদের জন্য পুণরুদ্ধার করা হয়েছে, যা ভাড়াটে নেওয়ার আগে সঠিক প্রোপার্টি লাইসেন্স লাভে ব্যর্থতার জন্য ল্যান্ডলর্ডদের জবাবদিহির আওতায় রাখতে বাধ্য করে থাকে।

এছাড়া বিধি ভঙ্গ, যেমন প্রোপার্টিতে নিরাপদ প্রবেশাধিকার রুখতে ভাড়াটিয়ার সাথে সহিংস ব্যবহার বা হুমকি দেয়া, অবৈধভাবে উচ্ছেদ অথবা হয়রানি বা উন্নতি করার নোটিশ অনুযায়ি কাজ না করা কিংবা নিষেধাজ্ঞা আদেশ মেনে চলতে ব্যর্থ হওয়ার ক্ষেত্রেও এই পিআরও ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

২০১৯ সালে পিআরও স্কীম চালু করার পর থেকে এ পর্যন্ত ৬৭ জন ভাড়াটিয়ার অনুকূলে সর্বমোট ২০১,৯৬৫ পাউন্ড ভাড়ার অর্থ ফেরত আনা সম্ভব হয়েছে।

যদি কোন বাড়ির মালিক বা এজেন্ট অপরাধমূলক কাজ করে থাকেন, তাহলে ভাড়ার চুক্তির আওতায় পরিশোধকৃত অর্থ পুণরুদ্ধার বা ফেরত নিতে এই রেন্ট রিপেমেন্ট অর্ডার (পিআরও) প্রয়োগ করা হয়। এজন্য ল্যান্ডলর্ড বা তার এজেন্টকে দোষি সাব্যস্ত হওয়ার দরকার নেই, তবে পিআরও জারি করতে হলে যুক্তিসঙ্গত সন্দেহ ব্যাতিরেকে ট্রাইবুনালকে এই মর্মে সন্তুষ্ট হতে হবে যে অপরাধগুলোর যে কোন একটি ঘটেছে।

পিআরও এর আওতায় একজনের কাছ থেকে সর্বোচ্চ ফেরত আনার অর্থের পরিমাণ হচ্ছে ৯০০০ পাউন্ড।

এছাড়া একটি প্রোপার্টি থেকে সর্বোচ্চ পূণরুদ্ধারকৃত অর্থের পরিমাণ হচ্ছে ৫৫ হাজার পাউন্ড। ভাড়া দেয়ার লাইসেন্স বিহিন এই প্রোপার্টিতে বিভিন্ন সময় বাস করেছেন এমন ৯ জন ভাড়াটের জন্য এত বিপুল পরিমাণ অর্থ পুণরুদ্ধার করা হয়। এই প্রোপার্টিটি জন্য এইচএমও লাইসেন্স থাকাটা বাধ্যতামূলক ছিলো, কারণ একটি নির্দিষ্ট সময়কালের জন্য এটিতে ৮ জন ভাড়াটে বাস করেছেন।

এনভায়রনমেন্টাল হেলথ এন্ড ট্রেডিং স্ট্যান্ডার্ড বিভাগ ভাড়াটেদের পক্ষে পিআরও কেসটি নিষ্পন্ন করার পর একজন কৃতজ্ঞ ভাড়াটে কাউন্সিলকে লিখেছেনঃ এ কাজের জন্য আপনারা যা যা করেছেন, সেজন্য আপনাদের ধন্যবাদ। এটি নিঃসন্দেহে বাড়ির মালিকের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং একটি লাইফলাইন হিসেবে কাজ করেছে। বাড়ির মালিকের সাথে দেনদরবার করাটা মোটেই আনন্দদায়ক অভিজ্ঞতা ছিলো না এবং পুরো পরিস্থিতির একটি সফল পরিণতি পাওয়াটা দুর্দান্ত অর্জন।

যেসকল বাড়ি ঘর বা প্রোপার্টি থেকে অর্থ পুণরুদ্ধার করা হয়েছে, সেগুলো এইচএমও লাইসেন্স লাভ করেছে।

টাওয়ার হ্যামলেটসের মেয়র জন বিগস বলেন, অর্থলিপ্সু গুটি কয়েক বাড়ি-মালিকদের দ্বারা যাতে একজন ভাড়াটেও শোষণের শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতে আমরা কাউন্সিল হিসেবে যথাসাধ্য চেষ্ঠা করে যাচ্ছি। আমি খুবই সন্তুষ্ট যে, আমরা এই স্কীমটি চালু করতে পেরেছি এবং এরই মধ্যে এটি প্রাইভেট রেন্টেড সেক্টরের বাসিন্দাদের মধ্যে সত্যিকারের পরিবর্তন আনতে পেরেছে।

কেবিনেট মেম্বার ফর প্ল্যানিং এন্ড সোশ্যাল ইক্লুজন, কাউন্সিলর ইভ ম্যাকুইলান বলেন, প্রত্যেক ভাড়াটিয়ার নিরাপদ ও সুরক্ষিত ঘর প্রাপ্য। যখনই কোন বাড়ির মালিক তার ভাড়াটিয়ার প্রতি দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হবেন, তখন আমরা পিআরও সহ আমাদের ক্ষমতার মধ্যে যা যা করা সম্ভব, তা করতে ভাড়াটিয়াদের পক্ষে দাঁড়াবো এবং তারা অনিরাপদ ফ্লাটে শোষনের শিকার হচ্ছেন না, তা নিশ্চিত করবো।

কোন প্রাইভেট টেনেন্ট অর্থাৎ ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রোপার্টিতে বাসকারী ভাড়াটেরা যদি মনে করেন যে, তাদের ঘর/ফ্ল্যাটের মালিক বিধিবিধানগুলো যথাযথভাবে অনুস্মরণে ব্যর্থ হচ্ছেন, তাহলে তারা environmental.health@towerhamlets.gov.uk এই ইমেইলে যোগাযোগ করতে পারেন।