ব্রিটেনে ভ্যাকসিনের দ্বিতীয় ডোজ না দেওয়াতে, আবারো কভিড-১৯ আক্রান্ত ফ্রন্ট লাইন নার্স

1296

মো: রেজাউল করিম মৃধা: করোনাভাইরাস মহামারি থেকে বেঁচে থাকার প্রতিশোধক হিসেবে বিজ্ঞানীরা আবিস্কার করেন ভ্যাকসিন । এপর্যন্ত প্রায় সব দেশ গুলিতেই নিজেদের বিজ্ঞানীরা যার যার মত করে ভ্যাকসিন আবিস্কার করলেও ফাইজাররে ভ্যাকসিন সারা ফেলে সারা বিশ্ব জুড়ে।

গত ডিসেম্বরের ৮ তারিখে ব্রিটেনে প্রথম ভ্যাকসিন দেওয়া শুরু করে । এর পর ৪ঠা জানুয়ারি ২০২১ সালে অক্সফোর্ড ভ্যাকসিন দেওয়া শুরু হয় ৮জানুয়ারি অনুমোদন দেওয়া হয় মার্ডেনার ভ্যাকসিনকে।

ফাইজার ভ্যাকসিন প্রথম ডোজ দেওয়ার ২১ দিনের মধ্যে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়ার নিয়ম রয়েছে এবং পরিস্কার ভাবে গাইড লাইন্স দেওয়া আছে তিন সপ্তাহ বা ২১ দিনের মধ্যে দ্বিতীয় ডোজ না দিলে এর এর কার্যক্ষমতা থাকবেনা।

কিন্তু ব্রিটিশ সরকার এবং এনএইচএস প্রথম ডোজ এর উপর বেশী গুরুত্ব দিয়েছে এবং বেশী মানুষকে ভ্যাকসিন দেওয়ার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এতে যেনো হিতে বিপরিত হতে শুরু করেছে।

২১ দিনের মধ্যে ভ্যাকসিনের দ্বিতীয় ডোজ না দেওয়াতে ৪৩ বছর বয়স্ক ফ্রন্ট লাইন নার্স ডেভিড ল্যাংডেন আবারো কভিড-১৯ বা করোনাভাইরস পজেটিভ ধরা পরেছে।

ডেভিড ফ্রন্ট লাইন ওয়ার্কার নার্স হিসেবে প্রথম দিন ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ দিয়ে নিজে ভাগ্যবান মনে করলে ও ৫ই জানুয়ারি দ্বিতীয় ডোজ ভ্যাকসিন দেওয়ার এপোয়েন্টমেন্ট থাকলেও বেশী লোককে প্রথম ডোজ ভ্যাকসিন দেওয়ার জন্য তার এপোয়েন্টমেন্ট বাতিল করা হয় । কি দূর্ভাগ্য ১৩ জানুয়ারি তার কভিড-১৯ পজেটিভ ধরা পরে। এখানেই শেষ নয় তার স্থান হয়েছে বাগানের স্টোর রুমে। তার পার্টনার মনে করছেন সবার সবাইকে সুরক্ষার জন্য এর বিকল্প নেই।

এনএইচএস যদি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দ্বিতীয় ডোজ ভ্যাকসিন ডেভিড কে দেওয়া হতো তাহলে ডেভিড নিজে সুস্থ্য থেকে অন্যদের কে সেবা দিতে পারতো। অথচ দ্বিতীয় ডোজ ভ্যাকসিন না দেওয়াতে আজ তিনি মানবেতর জীবন যাপন করছেন বলে দি সানডে জানিয়েছে।

ইংল্যান্ডের চার জন চীফ মেডিক্যাল অফিসাররা বলেছেন’”নিস্চিত ভাবে ২থেকে ৩ সপ্তাহের মধ্যে দ্বিতীয় ডোজ ভ্যাকসিন না দিলে এর কার্যকারিতা কমে যাবে। প্রাধান্য তার ভিত্তিকেই প্রথম ডোজ ভ্যাকসিন দেওয়ার ২১ দিনের মধ্যেই দ্বিতীয় ডোজ ভ্যাকসিন দিতে হবে”।

ডেভিডের মত অনেক ফ্রন্ট লাইন ওয়ার্কাররা আতংকে আছেন তাদের দাবী প্রথম ডোজ ভ্যাকসিন দেওয়ার ৫ থেকে ১০ দিনের মধ্যে দ্বিতীয় ডোজ ভ্যাকসিন দেওয়া হোক।

প্রতিটি ভ্যাকসিনের গাইড লাইন্স মেনেই এর ব্যাবহার করলে অবশ্যই সুফল বয়ে আনবে।