‘খারাপ ভারতীয় অস্ত্রের কারণে আর্মেনিয়া হেরেছে’

385

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : সম্প্রতি নাগোর্নো-কারাবাখ নিয়ে যুদ্ধে নিম্নমানের ভারতীয় সামরিক হার্ডওয়্যারের কারণে আজারবাইজানের কাছে আর্মেনিয়া হেরেছে বলে সামাজিক গণমাধ্যমে ব্যাপক ট্রল চলছে। যদিও আর্মেনিয়া সরকারের তরফ থেকে ভারতের বিরুদ্ধে এখনো কোন অভিযোগ তোলা হয়নি কিন্তু নেট দুনিয়ায় ভারতীয় অস্ত্র নিয়ে সমালোচনা থামছে না। ইউরেশিয়ান টাইমসের এক খবরে এটা বলা হয়েছে।

অভিযোগের তীর মূলত ভারতের সরবরাহ করা ‘সাথী’ রাডারের দিকে। টুইটার, ফেসবুক, ইউটিউব, ইত্যাদিতে অভিযোগ তোলা হয় যে আর্মেনিয়া চলতি বছর ভারতের কাছ থেকে ৪০ মিলিয়ন ডলার দিয়ে যে সাথী রাডার কিনেছে তা আজারবাইজানের উন্নত অস্ত্রের বিরুদ্ধে কাজ করেনি।

নেটিজেনরা যেসব সূত্র থেকে এই খবর প্রকাশ করেছে সেগুলোও নিশ্চিত করা যায়নি।

কিছু ইউজার এমনও দাবি করেন যে আর্মেনিয়াকে ত্রুটিপূর্ণ রাডার সরবরাহের কারণে যে বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তা ভারতীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের ব্যাপক ক্ষতি করবে।

আজারি সেনাদের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত সামরিক সরঞ্জামের তালিকায় সাথী রাডার নেই। আর যুদ্ধক্ষেত্রে এই রাডার ব্যবহার করা হয়েছে কিনা সেই তথ্যও গোপন রেখেছে আর্মেনিয়া সরকার।

সাথী রাডার কিনতে চলতি বছরের মার্চে ভারতের সঙ্গে চুক্তি করে আর্মেনিয়া। ডিফেন্স রিসার্চ অর্গানাইজেশন (ডিআরডিও)-এর উদ্ভাবিত রাডারটি তৈরি করে ভারত ইলেক্ট্রনিক্স লি. (বিইএল)। দাবি করা হয় যে, এই রাডার একই সঙ্গে অনেকগুলো টার্গেট সনাক্ত করতে পারে এবং সেই তথ্য আর্টিলারি অপারেটরের কাছে সরবরাহ করে। বলা হয়, এই রাডার ৫০ কিলোমিটার পাল্লার মধ্যে মর্ডার, শেল ও রকেট সনাক্ত করতে পারে।

নাগোর্নো-কারাবাখ যুদ্ধে আর্মেনিয়ার ব্যাপক ক্ষতি হয়। দেশটি প্রায় ১৮৫টি টি-৭২ ট্যাঙ্ক, ৯০টি সাঁজোয়া যুদ্ধযান, ১৮২টি কামান, ৭৩টি মাল্টিপল রকেট ল্যান্সার, ২৬টি সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল সিস্টেম, ১৪টি রাডার ও জ্যামার, একটি এসইউ-২৫ জঙ্গিবিমান, চারটি ড্রোন ও ৪৫১টি সামরিক যান হারিয়েছে বলে মিলিটারি এফেয়ার্স ব্লগ-অরিক্সের বিশ্লেষক তিজিন মিৎজার জানিয়েছেন।

যুদ্ধে আজারবাইজানের ড্রোনগুলো ব্যাপক পারদর্শিতা দেখায় এবং আর্মেনিয়ার প্রতিরক্ষা ব্যুহ গুড়িয়ে দেয়।