হিমঘরে এন্ড্রু কিশোরের লাশ, অপেক্ষা অষ্ট্রেলিয়া প্রবাসী ২ সন্তানের

1339

ঢাকা সংবাদদাতা: অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী দুই সন্তান মেয়ে সজ্ঞা (২৬) ও ছেলে সপ্তক (২৪) দেশে ফিরলেই সমাহিত করা হবে ১৫ হাজারের অধিক গানের সাম্রাজ্যের কণ্ঠশিল্পি এন্ড্রু কিশোরকে। মৃত্যুর আগে কণ্ঠের এই জাদুকর বলে গেছেন, তাকে যেন মহানগরীর শ্রীরামপুরে খ্রিস্টানদের সমাধিস্থলে মা মিনু বাড়ৈয়ের পাশেই সমাহিত করা হয়। তার সেই ইচ্ছার প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে তার দুই সন্তান বাবার মৃত্যুর সংবাদ শুনে দেশের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন।

এর আগে সোমবার রাতেই তার মরদেহ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের হিমঘরে নেয়া হয়েছে। এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেন তার বন্ধু ও রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান ড. দ্বিপেন্দ্রনাথ। তিনি জানান, সোমবার সন্ধ্যায় মৃত্যুর পর রাতেই তাকে হাসপাতালের হিমঘরে নেয়া হয়।

১৯৫৫ সালের ৪ নভেম্বর রাজশাহী মিনু বাড়ৈয়ের কোল আলোকিত করে জন্ম নেয় এক ফুটফুটে শিশু। মা তার প্রিয়শিল্পী কিশোর কুমারের নামে সন্তানের নাম রাখেন ‘কিশোর’। ধীরে ধীরে ছেলেটি বড় হয়ে সংগীতাঙ্গনে পা রাখে। সেই ছেলেটিই বাংলাদেশের কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী এন্ড্রু কিশোর।

বাবা ক্ষীতিশ চন্দ্র বাড়ৈ। মা রাজশাহীর বুলনপুর মিশন গার্লস হাই স্কুলের শিক্ষিকা থাকায় সেখানেই পড়াশোনায় হাতেখড়ি। তার সংগীত পাঠ শুরু হয় রাজশাহীর মরহুম ওস্তাদ আবদুল আজিজ বাচ্চুর কাছে। আশির দশকে প্লেব্যাকের জগতে পা রাখার পর থেকে বাংলা, হিন্দিসহ বহু চলচ্চিত্রের গানে কণ্ঠ দিয়েছেন তিনি। তার বহু গান স্থান করে নিয়েছে মানুষের হৃদয়ে, স্মৃতির মণিকোঠায়।

গত বছরের ৯ সেপ্টেস্বর শরীরের নানা জটিলতা নিয়ে সিঙ্গাপুর চিকিৎসা করাতে গিয়েছিলেন এন্ড্রু কিশোর। শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তার ব্লাড ক্যান্সার ধরা পড়ে। এরপর থেকেই সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন তিনি। ছয়টি ধাপে তাকে ২৪টি কেমোথেরাপি দেয়া হয়।

এরপর ১১ জুন রাতে একটি বিশেষ ফ্লাইটে তাকে দেশে আনা হয়। দেশে ফেরার পর রাজশাহী মহানগরীর মহিষবাথান এলাকায় বোন ডা. শিখা বিশ্বাসের বাসায় চিকিৎসা নিচ্ছিলেন ক্যান্সার আক্রান্ত এন্ড্রু কিশোর।

দেশের প্রখ্যাত এ শিল্পী দুলাভাই ডা. প্যাট্রিক বিপুল বিশ্বাসের তত্ত্বাবধানে ছিলেন। ডা. বিপুল নিজেও একজন ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ। কিন্তু তিনিও আর বাঁচাতে পারেননি খ্যাতিমান এ শিল্পীকে।