ভারতের কাছে ২০১১ সালের বিশ্বকাপ বিক্রি: ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন শুরু শ্রীলঙ্কায়

175

খেলাধুলা ডেস্ক: শ্রীলঙ্কার ১৯৯৬ বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক অর্জুনা রানাতুঙ্গা একবার বলেছিলেন, তার সন্দেহ হয় ২০১১ ওয়ানডে বিশ্বকাপ ফাইনাল পাতিয়েছেন সাঙ্গাকারা-জয়াবর্ধনেরা। এবার যখন শ্রীলঙ্কার সাবেক ক্রীড়ামন্ত্রী ফিক্সিংয়ের অভিযোগ তুললেন, নড়েচড়েই বসেছে সবাই। ৯ বছর আগে মুম্বাইয়ে অনুষ্ঠিত ওই ফাইনালে সত্যিই কোনো দুর্নীতি হয়েছিল কি না, তা বের করতে ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন শুরু করেছে শ্রীলঙ্কা।

শ্রীলঙ্কার ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সেক্রেটারি কে.ডি.এস রুয়ানচন্দ্র সংবাদসংস্থা এএফপিকে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘পুলিশের একটি স্পেশাল তদন্ত ইউনিট এখন দেখছে ব্যাপারটা, যে ইউনিট ক্রীড়া বিষয়ক অপরাধগুলো তদন্ত করে থাকে।’ স্থানীয় মিডিয়া জানিয়েছে, তদন্তকারীরা ২০১১ বিশ্বকাপে দলের প্রধান নির্বাচকের দায়িত্বে থাকা অরবিন্দ ডি সিলভাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে আজ (মঙ্গলবার)।

চলতি মাসের শুরুতে শ্রীলঙ্কার সাবেক ক্রীড়ামন্ত্রী মহিনানন্দ আলুতগামাগে দাবি করেন, ২০১১ বিশ্বকাপ ট্রফিটা ভারতের কাছে বিক্রি করেছিল শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট দল। তিন বলেন, ‘আমার মনে হয় এখন আমি এ ব্যাপারে কথা বলতে পারি। খেলোয়াড়দের একটা অংশ জড়িত ছিল।’ তবে তখনকার অধিনায়ক কুমার সাঙ্গাকারা এবং ফাইনালে সেঞ্চুরি হাঁকানো মাহেলা জয়াবর্ধনে প্রতিবাদ জানান। সাঙ্গাকারা বলেন, আলুতগামাগের উচিত আইসিসির কাছে ফিক্সিংয়ের প্রমাণ দেয়া। আর মাহেলা এটিকে রাজনৈতিক চাল হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ওই ফাইনালে আগে ব্যাট করে মাহেলার সেঞ্চুরিতে লঙ্কানদের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৭৪/৬। লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দলীয় ৩১ রানের মধ্যে বীরেন্দর সেওয়াগ ও শচীনের উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় ভারত।

কিন্তু এরপর বাজে ফিল্ডিং ও অনিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হারায় শ্রীলঙ্কা। শেষ পর্যন্ত ৬ উইকেটে হেরে রানার্সআপ হয় সাঙ্গাকারার দল।

উল্লেখ্য, শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ ফিক্সিং এখন ফৌজদারি অপরাধ। অভিযোগ প্রমাণিত হলে রয়েছে বড় শাস্তির বিধান। সর্বোচ্চ ১০০ মিলিয়ন রুপি জরিমানা ও ১০ বছরের জেল হতে পারে অপরাধীর।