ব্রিটেনে শীতে দ্বিতীয় বার আবারো আঘাত হানতে পারে কভিড ১৯: দীর্ঘ সময় চলতে পারে করোনার তান্ডব

12786

মো: রেজাউল করিম মৃধা: ব্রিটেনে শীতে দ্বিতীয় বার আবারো আঘাত হানতে পারে কভিড -১৯। বা করোনাভাইরস মহামারি।এমন একটি ধারনা পোষন করেছেন, (SAGE) এর মেম্বার ও দি ওয়েলকাম ট্রাস্টের ডিরেক্টর স্যার জেরেমি ফার্রার। তিনি বলেন ,” শীতে সেকেন্ড ওয়েব “ করোনাভাইরাসের প্রভাব বিস্তার করতে পারে “ বলে সবাইকে সতর্ক করেছেন।তিনি বলেন করোনাভাইরস বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ভাবে আসতে পারে তবে শীতের সময় করোনাভাইরসের শক্তি বেড়ে যায়। তিনি আরো একটি ধারনা উল্লেখ্য করেন কোন রোগের জীবানু একেবারে নির্মুল হয়ে যায় না । ভাইরাস থাকে তবে মানুষের স্বচেতনতা, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং ঔষধ সব মিলে এক সময় নিয়ন্ত্রনে চলে আসে। করোনাভাইরস ও তেমনি নিয়ন্ত্রনে আসবে। তবে শীতের সময় এর প্রভাব বেড়ে যাবে। দ্বিতীয় বার আঘাত হানতে পারে।

জর্জ এলিট হাসপাতালের নিউটেসন গ্লেন বুরলে বলেন, “ করোনাভাইরস পুরাপুরি নিয়ন্ত্রনে আসতে আরো ৪ বৎসরেরও বেশী সময় লাগতে পারে।করোনাভাইরস রাতারাতি শেষ হওয়ার সম্ভবনা খুবই কম”।

নর্থ হ্যামরিয়া হেল্থ কেয়ারের সিইও – জিম ম্যাকউয়ে বলেন “আমি ৭ টি হাসপাতালের সাথে কাজ করি এবং সব তথ্য অনুযায়ী করোনাভাইরস কখনোই পুরাপুরি নির্মুল করা যাবে কিনা সে স্বন্দেহ থেকেই যাচ্ছে, তবে অনেক বছর সময় লাগবে এটা নিস্চিত বুঝা যাচ্ছে “।

এন এইচ এস এর সিইও- নিয়াল ডিকসন বলেন,”এন এইচ এস এর পক্ষে একা করোনা মোকাবিলা করা মোটেই সম্ভব নয়, সকলের সমস্টিগত চেস্টায় করোনা মোকাবিলা করতে হবে”। তিনি আরো বলেন,” এই করোনায় ডাক্তার, নার্স এবং কি ওয়ার্কাররা ভয় পায় পেসেন্ট কে আবার পেসেন্ট ভয় পায় ডাক্তার , নার্স এবং কি ওয়ার্কারদের । কেউ যেনো চিন্তা মুক্ত নয়। এটা থেকেও আমাদের বের হয়ে আসতে হবে”। একে অপরকে বিশ্বাস করতে চায় না। মনে করে একে অপরকে ভাইরাস ছড়াচ্ছেন।

তবে ব্রিটেনের বিজ্ঞানীরা তাদের গবেষনায় এতটাই নিশ্চিত হয়েছেন যে তারা মনে করেন করোনাভাইরস মহামারি এখন আন্ডার কন্ট্রোলে আছে।গবেষকরা আরো মনে করেন সরকারী বিধি নিষেধ সবাইকে মেনে চলতে হবে। বড় লোক জামায়েত ও মিছিল মিটিং থেকে নিজেদের সাবধানে থাকতে হবে। অবশ্যই সামাজিক দূরুত্ব বজায় রাখতে হবে।

বৃটিশ সাইনটিস্ট ড: স্মিথ বলেন, “ সোসাল ডিসটেইন্স খুবই জরুরী । এক মিটার অবশ্যই দূরুত্ব থাকতে হবে।যে সব প্রতিষ্ঠানে এটা রক্ষা করতে পারবে না এবং সম্ভব নয় সে সব প্রতিষ্ঠান পুরোপুরি করোনাভাইরস নিয়ন্ত্রনে না আসলে খুলা সম্ভব নয়।যেখানে সামাজিক দূরুত্বকে গুরুত্ব দিবেনা সেখান আবার করোনার ভয়াবহ রুপ নিতে পারে”।

তবে ব্রিটেনের বিজ্ঞানীরা করোনাভাইরস মহামারি আন্ডার কন্ট্রোলে আছে মনে করলেও কিন্তু অন্য গবেষকরা এটা পুরোপুরি মানতে নারাজ তাদের মতে করোনাভাইরস এখনও নিয়ন্ত্রনে আসেনি। আবার অনেকে দ্বিতীয় বার ভাইরাস আসার সম্ভবনা করছেন।

বৃটিশ সরকারও দ্বিতীয় বার আসতে পারে এমন মনোভাব নিয়ে এগুচ্ছেন। এ জন্য যে শহর বা এলাকায় করোনা প্রাদুর্ভাব বেশী হবে সেখানে লক ডাউন ঘোষনা করা হবে। যাতে করোনা নিয়ন্ত্রনে রাখা যায়।

ম্যানিফক্চারিং ওয়ার্কশপ বা যে সব প্রতিষ্ঠান সামাজিক দূরুত্ব ১ মিটার রক্ষা করা সম্ভব নয় সে সব প্রতিস্ঠান ২০২২ সালের আগে খুলছে না।

লেখক সাংবাদিক মো: রেজাউল করিম মৃধা