সুনামগঞ্জে অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত ৪৪ হাজার পরিবার

201

সিলেট সংবাদদাতা: আজ সকাল থেকে বৃষ্টি না হওয়ায় সুনামগঞ্জের বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। তবে পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জ পৌরসভার ৮০ ভাগ ঘরবাড়ি প্লাবিত হয়েছে।

শহরের নবীনগর, ধোপাখালী, ষোলঘর, কাজীর পয়েন্ট, তেঘরিয়া, সাববাড়ির ঘাট, হোসেনবখত চত্বর, পশ্চিম হাজীপাড়া, জগন্নাথবাড়ি, জেলরোড, লঞ্চঘাট, সুরমা মার্কেট, হাছননগর, মল্লিকপুর, কালীপুর , রায়পাড়া, সোমপাড়া, আরপিননগর, বড়পাড়াসহ সবকটি আবাসিক এলাকার সড়ক ঢালের পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে। নীচু এলাকার শতাধিক বাড়িঘরে প্রবেশ করেছে পানি। পৌর এলাকার সড়কগুলো পানিতে নিমজ্জিত থাকায় যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। শহরের লোকজন পায়ে হেঁটে পানি মাড়িয়ে বাসাবাড়িতে চলাচল করছেন।

জেলা বন্যা নিয়ন্ত্রণ কক্ষ সূত্রে জানা যায়, সীমান্তের ওপাড় থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে সুনামগঞ্জ সদর, তাহিরপুর, বিশ্বম্ভরপুর, জামালগঞ্জ, ধর্মাপাশা, দোয়ারাবাজার, জগন্নাথপুর, ছাতক, শাল্লাসহ ৯টি উপজেলার ২৯টি ইউনিয়নের ৪৪ হাজার ১১০টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এগুলো হলো সদর উপজেলার গৌরারং, সুরমা,জাহাঙ্গীরনগর, রঙ্গারচর ইউনিয়ন ও সুনামগঞ্জ পৌর এলাকার ৫ হাজার, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ফতেহপুর, ধানপুর, সলুকাবাদ,পলাশ দক্ষিণ বাদাঘাট ইউনিয়নের ৫ হাজার পরিবার, জামালগঞ্জ উপজেলার বেহেলী ও ফেনারবাক ইউনিয়নের ৪০০, ধর্মপাশা উপজেলার চামরদানী ও দক্ষিণ বংশীকুন্ডা ইউনিয়নের ২৫০টি, শাল্লা উপজেলার বাহারা ও হবিবপুর ইউনিয়নের ১৪টি।

এছাড়া, তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট, বড়দল উত্তর, বড়দল দক্ষিণ, শ্রীপুর উত্তর ও শ্রীপুর দক্ষিণ,বালিজুরি ও তাহিরপুর সদর ইউনিয়নের ৩ হাজার, দোয়ারাবাজার উপজেলার সুরমা ও সদর ইউনিয়নের ১১ হাজার, ছাতক উপজেলার ইসলামপুর, নোয়ারাই,কালারুকা,দোলারবাজার ইউনিয়ন ও ছাতক পৌর এলাকার ১৯ হাজার ৩৯৬টি ও জগন্নাথপুর উপজেলার ৫০টি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

আর সদর উপজেলার ২৫টি, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ১০০টি, ছাতক উপজেলার ৫০টি,দোয়ারাবাজার উপজেলার ৯টি ধর্মপাশা উপজেলার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারসহ মোট ১৯৭টি পরিবার এখন পর্যন্ত আশ্রয় কেন্দ্রে এসে উঠেছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সুত্রে জানা যায়, ৩ হাজার ৭৬৫ হেক্টর আউশ ধানের জমি ও ১৮৮ হেক্টর বর্ষাকালীন সবজি ক্ষেত ঢলের পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সবিবুর রহমান বলেন, ‘সুরমা নদীর পানি ৭০ সেন্টিমিটার ও শক্তিয়ার খলা যাদুকাটা নদীর পানি বিপদসীমার ৯০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহীত হচ্ছে। আগামী ৪৮ ঘণ্টায় সুনামগঞ্জে আরও বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।’

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলাগুলোতে ৪১০ মেট্রিক টন চাল এবং ২৯ লাখ ৭০ হাজার টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া প্রদান করা হয়েছে উপজেলাস সমূহে ৪ হাজার ৭৫২টি পরিবারের মাঝে শিশু খাদ্য। উপজেলায় ও ইউনিয়ন পর্যায়ে শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও পানি বিশুদ্ধকরন ট্যাবলেট প্রস্তুত করা ও প্রয়োজন অনুযায়ী সরবরাহ করা হয়েছে। প্রস্তুত রয়েছে জেলার ৭৮টি আশ্রয় কেন্দ্র।’

তিনি জানান, ‘ত্রাণ বিতরণ ও উদ্ধার কাজে সহায়তার জন্য স্থানীয় পর্যায়ে নৌযান ও মাঝির ব্যবস্থা করা এবং তাদের যোগাযোগের নম্বর প্রচার করা হয়েছে। এ কাজে সহায়তার জন্য স্থানীয় পর্যায়ে স্পিড বোটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে কারও করোনা উপসর্গ থাকলে তাকে আলাদা স্থানে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে সাবান, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও মাস্ক সরবরাহ করা হয়েছে।

এছাড়া, চিকিৎসা ব্যবস্থা নিশ্চিতে মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির মিটিং করে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলেও জানান জেলা প্রশাসক।