বাংলাদেশী ব্রিটিশ হজ্ব এসোসিয়েশনের ঘোষণা : আগামী বছর হজে যেতে না চাইলে জামানতের অর্থ ফেরত দেয়া হবে

795

ওয়ানবাংলানিউজ: প্রতি বছর প্রায় ২৬ হাজার ব্রিটিশ মুসলিম হজ পালনে সৌদি গমন করে থাকেন। কিন্তু এবছর বুকিং থাকা সত্ত্বেও হজে যেতে পারেননি হাজার হাজার হজ যাত্রী। তবে মহামারির কারনে সৌদি সরকারের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন বাংলাদেশী ব্যবসায়ীরা। তবে এবছর হজ এজেন্সিগুলো বিশাল অংকের ক্ষতির সম্মুখিন হয়েছে।

পূর্ব থেকেই ধারনা করা হচ্ছিল এবার হজ বাতিল হতে পারে। তাই সোমবার সৌদি হজ মিনিস্টির ঘোষণার পরও হজযাত্রীরা তেমন একটা যোগাযোগ করছেন না। জানিয়েছেন এজেন্সিগুলোর কর্মকর্তারা।

এজেন্সিগুলো জানিয়েছে যারা বুকিং দিয়েছেন তারা চাইলে আগামী বছরের জন্য এই বুকিং অব্যাহত রাখতে পারবেন অথবা টাকা ফেরত নিতে পারবেন। আগামী বছর হজে গমনের খরছ বাড়বে বলে মনে করছেন এজেন্সিগুলোর কর্মকর্তারা।

এদিকে বাংলাদেশী ব্রিটিশ হজ্ব এসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তি নিচে হুবহু তুলে ধরা হল।

সম্মানিত সাংবাদিকগণ, আসসালামু আলাইকুম
করোনাভাইরাসের আঘাতজনিত মহামারিতে বিশ্বের এ কঠিন পরিস্থিতিতে আমরা ব্রিটিশ হজ্ব এসোসিয়েশন আপনাদের মাধ্যমে সম্মানিত হাজীদের উদ্দেশ্যে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা উপস্থাপন করতে চাই।
সাংবাদিক বন্ধুগণ!

আপনারা নিশ্চয়ই অবগত আছেন বিশ্বময়ী মহামারি কোভিড-১৯ -এর কারণে সৌদি হজ মন্ত্রণালয় কর্তৃক গত ২২ জুন ২০২০ অফিসিয়ালি নিশ্চিত করেছেন যে, ২০২০ সালে বিশ্ব মুসলিমের আকাঙ্ক্ষিত হজ সীমিত আকারে পালিত হচ্ছে। আন্তর্জাতিকভাবে হজ বন্ধ থাকবে। বাহিরের কোনো দেশ থেকে কোনো মুসলিম হজব্রত পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব গমন করতে পারবেন না।
আমরা বাংলাদেশী ব্রিটিশ হজ্ব এসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে আপনাদেরকে অত্যন্ত দুঃখ ও বেদনার সহিত জানাচ্ছি, এবার ২০২০ সালের পবিত্র হজে আপনাদের যাওয়া হচ্ছে না। এক্ষেত্রে হাজীগণ বিভিন্ন ট্রাভেল এজেন্সীকে যে অর্থ প্রদান করেছেন তা আমাদের কাছে আমানতস্বরুপ। এই আমানত রক্ষার্থে আমরা বদ্ধ পরিকর।

তবে যেহেতু হজ্ব পালনের লক্ষ্যে হাজীদের দেওয়া কমিটমেন্ট রক্ষার জন্য হজ্ব বুকিংয়ের সাথে সাথে উনাদের প্রদত্ত অর্থ ফ্লাইট বুকিং, হোটেল বুকিংসহ অন্যান্যস্থানে প্রদান করা হয়ে গেছে। যেসকল হাজীগণ আগামী বছরে হজে যাওয়ার আশা করছেন; শর্তসাপেক্ষে তাদের এ বছরের বুকিংকে আগামী বছরের জন্য ফরওয়ার্ড করার বিশেষ অনুরাধ জানানো যাচ্ছে। এছাড়া যেসমস্ত হুজ্জাজগন আগামী বছরের বুকিংয়ে আগ্রহী নন আমরা আগামী ৩ থেকে ৬ মাসের মধ্যে তাদের সমুদয় অর্থ ফেরত প্রদানের দৃঢ় প্রতিজ্ঞা ব্যক্ত করছি।

সম্মানিত হাজীগণ আপনারা অত্যন্ত আন্তরিকতারসহিত শরিয়তের বিধান পবিত্র হজ্ব পালনের উদ্দেশ্যে আমাদের কাছে হজ্ব বুকিং করেছিলেন। আমরাও সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে হজের ব্যবস্থাপনা করছিলাম। কিন্তু বিশ্বময় এই মহাদুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে আমাদের সকলের প্রত্যাশা পূরণ সম্ভব হচ্ছে না। আমরা আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করছি।

আল্লাহর এই হুকুমকে মেনে নিয়ে আগামী হজ্ব পালন যেন সুষ্ঠ হয়; তার জন্য মহান আল্লাহর দরবারে সকলকে দোয়া করার অনুরোধ করছি।
এ বৎসর যাহারা পবিত্র হজ্ব পালনের নিয়ত করেছিলেন এবং করোনা ভাইরাসের কারনে যেতে পারছেন না আমরা সবাই আল্লাহ তায়ালার দরবারে দোয়া করি আল্লাহ তায়ালা যেন পরিপূর্ন হজ্জের ছোয়াব দান করেন। আমীন
আপনাদের সকলকে ধন্যবাদ।

ধন্যবাদান্তে
বাংলাদেশী ব্রিটিশ হজ্ব এসোসিয়েশনের পক্ষে
লাব্বায়েক ট্রাভেলস, স্কাই ভিউ ট্রাভেলস, আল কিবলা ট্রাভেলস, হলি মক্কা ট্যুরস, আল সাফা ট্রাভেলস, মদিনা ট্রাভেলস, হাসান ট্যুরস, হিজাজ ট্রাভেলস, মিলফা ট্রাভেলস, এফ ট্রাভেল নেট, জমজম ট্রাভেলস বার্মিংহাম, বিএমটি ট্রাভেলস, ওয়ান কল, আল কবির ট্রাভেলস, মাদানী হজ্ব ট্যুরস লন্ডন এবং মক্কা এক্সপ্রেস

এদিকে গত বছর হজ পালনে বিভিন্ন দেশ থেকে ১৮ লাখ মুসলমান সৌদি আরবে গিয়েছিল, তার সঙ্গে যোগ হয়েছিল স্থানীয় মুসলমানরা। সৌদি হজ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মুসলমানদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়েই হজের আনুষ্ঠানিকতা সীমিত করা হয়েছে।