করোনার নতুন ঔষধ

898

ডাক্তার শানুর আলী মামুন: করোনা নিয়ে মানব মনে শঙ্কার শুরু ডিসেম্বর ২০১৯ থেকে। চীনের উহান শহরে অজানা কারনে মানুষ মারা যাচ্ছে। ১৭ নভেম্বর ২০১৯ , সাউথ মর্নিং চীনা পোস্ট এর তথ্যে এর রহস্য উম্মোচিত হয় I পত্রিকাটি প্রথম ৫৫ বছর বয়সী একজন রোগীর শরীরে এক নতুন ভাইরাসে আক্রান্ত হবার খবরটি প্রকাশ করে। খবরটা ডিসেম্বরের প্রথম দিকে চীন অফিশিয়ালি ঘোষণা করে। ধারনা বন্য বা সামুদ্রিক প্রানী থেকে আর এন এ শ্রেণীর ভাইরাসটির আগমনI আবার কারো কারো ধারনা এটা ব্যবহার করা হচ্ছে বায়োওইপেন হিসাবে, যা হয়তো বা কোনো ল্যাব থেকে বেরিয়ে এসেছে। উৎস যেখান থেকেইহোক মোকাবেলা করা আজ সময়ের আর জীবনের প্রয়োজন এবং ইতিমধ্যে এই অতি সংক্রামক ঘাতক অণুজীবকে মোকাবেলার সফলতা ছোট করে দেখার সুযোগ নাই।

প্রথমে খুব একটা গুরুত্ব দেয়া হয়নি কিন্তু ধীরে ধীরে মৃতের সংখ্যা শুধু বাড়তে থাকে ! শতের কোঠা ছাড়িয়ে হাজার কিন্তু সেখানেই শেষ নয় !হয়ে ওঠে অপ্রতিরোধ্য বেপরোয়া, দেশের গন্ডি ছড়িয়ে যাত্রা বিদেশে I আর মাত্র কয়েক সপ্তাহে সব বেরিকেড টপকিয়ে দখলে নেয় পৃথিবীর প্রায় সব কটি দেশ I সাধারন মানুষের সাথে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন দেশের টপ দায়িত্বশীলেরাও I আর ঘুম হারাম হয়ে যায় বিজ্ঞানীদের! কারন মাত্র চার মাসে আজ ২০ মে দুপুর পর্যন্ত এ ক্ষুদ্র জীবাণুটা ছড়িয়ে পরে বিশ্বের ২ ১ ৩ দেশে; প্রাণ কেড়ে নেয় তিন লক্ষাধিক মানবের (৩,২৫৪৯৭), আর সব প্রচেষ্টার পরও আক্রান্ত হয়ে যান পঞ্চাশ লক্ষাধিক (৫০,১২৯০১, তবে সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরেছেন প্রায় বিশ লক্ষ (১৯,৭৭২৭৭) I এ ছাড়াও ওলটপালট করে দিচ্ছে বিশ্বের অর্থনীতি ! গিলে ফেলেছে কয়েক ট্রিলিয়ন পাউন্ড !
ভাবতে অবাক লাগে এ যেন এক অচেনা পৃথিবী ! রাস্তা ঘাট নগর বন্দর প্রায় মানবশূন্য ! কেউ যেনো নাই নীল আকাশটা দেখার l আকাশের নিচে যেনো শুধু ঘর বাড়ী আর অট্টালিকা, দূসর মরু আর নীল সাগর নেই শুধু মানব l রাস্তায় নাই গাড়ী ঘোড়া আর আকাশে জাহাজ সব যেন অচল ! করোনা আতঙ্কে স্বেচ্ছায় গৃহ বন্ধি l
এর আগে এ রকম তান্ডব মানবকুল মোকাবেলা করার সাক্ষ্য কেউ দেয়নি, যদিও কালে কালে দুর্যোগ মহামারী এসেছে I কিন্তু এ অণুজীবটা নির্মম আকারে অনেকটা হিট এন্ড কিল- এর রূপ ধারণ করে ফেলে I বিশেষ করে যাদের রয়েছে হৃদরোগ শ্বাসকষ্ট ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন ধরনের ইম্মুনোকম্প্রোমাইজড অসুখবিসুখ I পাল্টে যায় পুরু পৃথিবীর দৃশ্য! এ রকম তো আর থাকা যায় না একটা সমাধান আসতে হবেই !
বিভিন্ন সূত্র থেকে সমাধানের পরামর্শ আসতে থাকে কিন্তু নির্ভর করা যাচ্ছে না ! কারো মতে মেলেরিয়ার ঔষধের সাথে এন্টিবায়োটিক এজিথ্রোমাইসিনের কম্বিনেশন ; আবার কারো মতে সপ্নে পাওয়া ঔষধ ! কিন্তু কেউ তো নিশ্চয়তা দিতে চায় না, থেকে যায় শঙ্কা l তবে ২৯ এপ্রিল ২০২০ গিলিয়েড প্রেস রিলিজ, Gilead Sciences সিম্পল ট্রায়েলে এন্টি ভাইরাল রেমেডিসিভিরে আশার কথা শুনালেও দিতে পারেনি কোনো নিশ্চয়তা বাকী রয়েছে এর আরো পরীক্ষা নিরীক্ষা আর অনিশ্চয়তা l
১৩ মে ২০২০ এর কালের কন্ঠে নতুন খবর, বাংলাদেশের একদল চিকিৎসকের পরামর্শ দুটি ওষুধের সম্মিলিত ব্যবহারে তিন দিনে ৫০% সুস্থ, চার দিনে শতভাগ করোনা মুক্তি l ইভারমেকটিন ও ডক্সিসাইক্লিন I বাংলাদেশ সরকার বিষয়টাকে গুরুত্ব সহকারে দেখার সুপারিশ রইলো I
তাঁরা দাবী করছেন অ্যান্টিপ্রোটোজোয়াল মেডিসিন ইভারমেকটিনের সিঙ্গল ডোজের সঙ্গে অ্যান্টিবায়োটিক ডক্সিসাইক্লিন প্রয়োগে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের মাত্র চার দিনের চিকিৎসায় রোগী শুধু রোগ থেকে নিরাময় পাচ্ছেন না বরং তাদের করোনাভাইরাস টেস্টের রেজাল্ট নেগেটিভ আসার বিস্ময়কর সাফল্য পেয়েছেন।
ইভারমেকটিন একটি আন্টি পেরাসাইটিক ঔষধ যা স্কেবিজ, ফাইলেরিয়া রিভার ব্লাইন্ডনেস সহ বিভিন্ন রোগে ব্যবরিত হচ্ছে I ইউনিভার্সিটি অব মেলবোর্ন এবং রয়েল মেলবোর্ন হসপিটালের একটা গবেষণা ইভারমেসটিনকে ভাইরাসে কার্যকরী হিসাবে দাবি করেন এবং তাদের গবেষণা প্রকাশিত হয় ৬ এপ্রিল ২০২০ ফারমাফিল্ড নামের মেডিকেলে পরটালে I তারা দাবী করেন ইভারমেকটিন ৪৮ ঘন্টার ভেতরে করোনা ভাইরাস ধ্বংস করতে সক্ষম এবং বড় ক্লিনিকেল ট্রায়েলের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন যা বিভিন্ন দেশে চলছে
তবে ভাইরাস থেকে মুক্তির পথ ভাইরাসমুক্ত পৃথিবী I ভাইরাসকে পৃথিবী থেকে তাড়িয়ে দেওয়া কিন্তু মানবকুল অবশেষে স্বীকার করছে যে তা সম্ভব নয় !মেনে নিয়েছে পরাজয় ! সব প্রচেষ্টা যেন ব্যর্থ I কাজে লাগানো যায়নি রণতরী বা এটিএম বোমা “We have lost control, we have killed the epidemic physically and mentally. Can’t understand what more we can do, all solutions are exhausted on ground. Our only hope remains up in the sky, God rescue your people,” Italian Prime Minister Giuseppe Conte. 22 March 2020 sourse facebook আর এখন পৃথিবীর মানবকুল ভাবছে কিভাবে বসবাস করা যায় পাশাপাশি WHO’s Michael Ryan says Covid-19 ‘may never go away’ May 14 2020.
সুতরাং আমাদেরকে থাকতে হবে এ পৃথিবীতে একসাথে l এখানে জয় পরাজয়ের বিষয় নয়; বিষয় হলো থাকবে কে এ পৃথিবীতে ? কার জন্য এ পৃথিবী? আর সে কারণেই অবশেষে ভাইরাসকে মানবের নিয়ন্ত্রনে আসতেই হবে ? লাগবে আরো কিছু সময় আর এ সময়টাই মানবজাতির জন্য এক চ্যালেঞ্জ l ভয় নাই মানবেরা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করেই, পৃথিবীর এ প্রযুক্তির যুগে এসেছে আর এ চ্যালেঞ্জ ও মোকাবেলা করবে কারন এ পৃথিবী তৈরী করা হয়েছে মূলত মানব জাতীর জন্য ভাইরাসের জন্য নয় l
চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে আমাদের সামনে আমাদের শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা আর মেনে চলতে হবে অর্জিত নিয়ম কানুন l রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে মেডিকেল বিজ্ঞানের ভাষায় ইমিউন সিস্টেম বলা হচ্ছে অর্থাৎ যার ইমিউন সিস্টেম যত শক্তিশালী তার জন্য কোরোনাকে হার মানানো তত সহজ l আর যারা বিজয়ী হবেন তাদের শরীরে কোরোনা প্রতিরোধ কারী অস্ত্র /antibody তৈরী হবে আর এটাই মূলত হার্ড ইমিউনিটি I অন্যভাবে বলতে গেলে হার্ড ইমিউনিটি মানেই হলো ভাইরাসের সাথে মোকাবেলা করা তবে মোকাবেলা করাটা অবশ্যই আতঙ্কের এবং ঝুঁকির l কারন ভেকসিনের মাধ্যমে হার্ড ইমিউনিটি তৈরী করার সুযোগ নাই I এ জীবন মরনের প্রশ্ন! এ ঝুঁকি থেকে নিরাপদ থাকার একমাত্র পথ ভ্যাক্সিনেশন অর্থাৎ একটা ইনজেকশন বা ড্রপের মাধ্যমে মানব শরীরকে প্রশিক্ষণ দিয়ে করোনার বিরুদ্ধে পরীক্ষিত অস্ত্র তৈরী করাl যাকে আমরা বলছি মেডিকেল সায়েন্সের ভাষায় স্পেসিফিক এন্টিবডি l
ইম্মিউন সিস্টেম বা রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে নিয়মিত ব্যায়াম করুন, পর্যাপ্ত ঘুম এবং হাসিখুশি থাকার চেষ্টা করুন l স্বাস্থ্যসম্মত খাবার আর প্রতিদিন ১০ -১৫ মিনিট মৃদু সূর্যের আলোতে থাকুন l
ইংলেন্ডসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এ ভ্যাকসিন তৈরীর জন্য বিজ্ঞানীরা আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছেনI বিশ্বের অন্তত সত্তরটি টিম করোনার ভ্যাকসিন বা টিকা আবিষ্কারের জন্য রাতদিন কাজ করে যাচ্ছেন l আর এ জন্য প্রতিটি দেশ বড় অংকের বাজেট ইতিমধ্যে বরাদ্দ করেছে l যুক্ত রাজ্য বরাদ্ধ করছে ৫৪৪ মিলিয়ন পাউন্ড l এর মধ্যে অক্সফোর্ড টিম কে ২০ মিলিয়ন আর ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডন টিম কে ২২.৫ মিলিয়ন পাউন্ড I
ভ্যাকসিন তৈরী সময় সাপেক্ষ কারন ভ্যাকসিন রহস্য বিষয়বস্তু খুঁজে পাওয়ার পরও এর প্রসেস, ক্লিনিকেল ট্রায়েল ক্ষতিকারক দিক এবং কার্যকারিতা নিশ্চিত করা অপরিহার্য এবং তারপর বাজারজাত সময়সাপেক্ষ l তবে আশার খবর হলো ইংলেন্ডের অক্সফোর্ড টিম এ ক্ষেত্রে বেশ এগিয়ে আছেl হিউমান ক্লিনিকেল ট্রায়েল ২৩ এপ্রিল শুরু করলেও মানকির ওপর ছুট্ট ট্রায়ালে ইতিমধ্যে কিছুটা সফলতার কথাই তারা জানিয়েছেন l তবে হিউমেন ট্রায়েলের রিপোর্টের জন্য আমাদেরকে মিড জুলাই পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে l
তবে করোনার প্রতি আমার মিশ্র প্রতিক্রিয়া l আর তাই নিচের কবিতাটা সময় থাকলে পড়তে পারেন l নিরপেক্ষ দৃষ্টিকোন থেকে বিবেচনা করলে দেখা যায় সব দোষ করোনাকেই দেয়া হচ্ছে I আজকাল কেউ শাসকষ্টে, বেক্টেরিয়া বা ফ্লো-জনিত নিউমোনিয়াতে বা সাধারন সর্দি জ্বরে অন্য কারনে মারা গেলেই দোষ পড়ে করোনার ওপর l তবে হে এর জন্য করোনা যে এ জন্য একেবারে দায়ী নয় তা কিন্তু পুরাপুরি বলা যায় না I কারন করোনা সন্দেহে ওই রোগীরা কিন্তু উপযুক্ত চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন l অন্যদিকে করোনাকে পৃথিবীর সব সেলিব্রিটির চেয়ে জনপ্রিয় করে তুলেছেন কিছু মানবেরা বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় l তবে এ ক্ষেত্রে ডাক্তারদের ভূমিকা কম কারন একটা হতে পারে তারা বিজ্ঞান আর তথ্য নির্ভর ছাড়া কিছু ছাড়তে পারেন না মিডিয়ায় l শতকরা আশি জন করোনা আক্রান্ত রুগী ডাক্তারের কাছে যাবার বা এমনকি ফোন করার প্রয়োজন হয় নাই l কয়জন মিডিয়ায় তা ভাইরাল করেছেন ? বাকী বিশজনের মধ্যে ১৪ জন সুস্থ হয়েছেন সামান্য লেবুর শরবত গরম পানি সামান্য এন্টিবায়োটিক কিছু এন্টিহিস্টামিন আর পেরাসিটামল, শতকরা তিন জনের প্রাণহানী ঘটেছে যা দুর্ভাগ্যজনকএবং বেশির ভাগ ষ্টেটে যাদের আন্ডারলায়িং সমস্যা ছিল যেমন ডায়াবেটিস চিকিৎসাতেই l তাই করোনা নিয়ে বস্তুনিষ্ট বিজ্ঞান ভিত্তিক সংবাদ পরিবেশন করে মানুষের মনোবলকে শক্তিশালী করা করোনা মোকাবিলায় সহায়ক ভূমিকা গ্রহণ করতে পারে I

কি করে করোনা?

শুষ্ক কাশি সর্দি শ্বাসকষ্ঠ আর ভাইরাল নিউমোনিয়া, কারো কারো স্বাদ ও গ্রান শক্তি কমে যাওয়া এবং ডায়ারিয়া । কোন কোনো ক্ষেত্রে অর্গান ফেইলর বা জীবনাবসানও ঘটতে পারে তবে এর সংখ্যা শতকরা তিন জনের একটু বেশী। বাকী প্রায় সাতান্নব্বইজন সুস্হ হচ্ছেন। যেহেতু এন্টিবায়োটিক এখানে কাজ করবে না তাই রেস্ট, প্রচুর পানি এবং স্বাস্থ্য সম্মত খাবার প্রয়োজন আর মনোবাল।

প্রথম কি করা উচিত এবং কখন ডাক্তারে যাবেনঃ

ইতিমধ্যে বিশ্বের ২১৩ টি দেশে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসে আপনার আক্রান্ত হওয়া খুব অস্বাভাবিক নয় এবং আক্রান্ত হলে আপনি কি করবেন? সর্দি কাশী হলেই যে আপনার করোনা তা কিন্তু সঠিক নয় করোনা ছাড়াও আরো অনেক কারন রয়েছে সর্দি কাশি হবার l নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যানে দেখা যায় শুধু এলার্জিজনিত কারনে শতকরা চল্লিশজনের সর্দি হতে পারেl সুতরাং সর্দি কাশি হলেই ডাক্তারের কাছে যাবেন না l মনে রাখবেন ডাক্তারের চেম্বারে যে রোগীরা থাকবে তাদের কেউ হয়তো আক্রান্ত থাকতে পারেন বা ডাক্তার নিজেই রোগের জীবাণু বহন (carrier) করতে পারেন আর তাই ডাক্তার বা স্বাস্থ্য কর্মীদেরকে সুপার স্প্রেডের বলা হয় সুতরাং একান্ত প্রয়োজন ছাড়া ডাক্তারের চেম্বারে যাবেন নাl কারন ডাক্তারের চেম্বার থেকে করোনাকে নিয়ে যেতে পারেন আপনার ঘরেl
ডাক্তারের চেম্বারে না গিয়ে ঘরে থেকে বিশ্রাম নেবার পাশাপাশি যা করতে পারেন l

১l লবন গরম পানি দিয়ে গড়গড়া রোজ তিন চারবার l
২l প্রচুর পরিমান পানি এব লেবু শরবত l
৩l পরিমিত স্বাস্থ্যকর খাবার l
৪l ফুসফুসকে ভাল রাখার জন্য বাসায় বা বাসার বারান্দায় বসে মুক্ত বাতাসে শ্বাস প্রশ্বাসের ব্যয়াম করুন কমপক্ষে দৈনিক দু’বার। নাক দিয়ে লম্বা নিশ্বাস গ্রহন করুন যতোবেশী নিতে পারেন নিন তারপর যতোক্ষণ আটকিয়ে রাখতে পারেন রাখুন (অন্তত ৫ সেকেন্ড )। তারপর মুখ দিয়ে আস্তে আস্তে দম ছাড়ুন। জোরে কাশি দিয়ে গলা পরিষ্কার করুন l এভাবে ১০ বার করুন। ধূমপান পরিহার করুন I
৫l গরম দুধ, গরম চা, কফি গ্রিন টি আধা ঘন্টা পর পর পান করুন। কোনভাবেই গলা শুষ্ক রাখা যাবেনা।
কিছু ঔষধ কাউন্টার থেকে এনেও ব্যবহার করতে পারেনl তবে মনে রাখবেন যেকোনো কিছুতেই ব্যক্তি বিশেষে এলার্জিক রিএকশন হতে পারে এমনককি স্বাভাবিক খাবারেও তাই যে কোনো বিরূপ প্রতিক্রিয়া উপলব্দি করলে ডাক্তারেরপরামর্শ নেওয়া খুবই দরকারl

সর্দির জন্য ট্যাবলেট সিটিরিজিন ১০মিলিগ্রাম রোজ ১টা l
কাশির জন্য সিরাপ ডেক্সপোটেন দুই চামচ তিন বারl
অতিরিক্ত জ্বর গলা ব্যথা হলে প্যারাসিটাম ট্যাবলেট ৫০০মিলিগ্রাম ১টা বা ২ টা করে তিনবার ভরা পেতে খেতে পারেন l অইবোপ্রোফেন জাতীয় বেদনা নাশক না খাওয়াই ভালোI
কিন্তু যদি জ্বর মাত্রাতিরিক্ত হয়, ক্রমাগত কাশি এবং শ্বাসকষ্টসহ অন্যান্য উপসর্গ থাকে যার তীব্রতা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সাতদিন পরে সাধারণত লক্ষ করা যায় তখন আপনাকে ডাক্তারের সরনাপন্ন হয়ে ব্যবস্থা নিতে হবে l চিকিৎসক আপনার অবস্থা অনুযায়ী চিকিৎসা দিতে পারবেন যেমন শ্বাস কষ্টের জন্য অক্সিজেন এবং ব্রঙ্কোডাইলেটর, ইনহ্যালেড বা সিস্টেমিক স্টেরইড তা ছাড়াও রয়েছে অনেক ব্যবস্থা সুতরাং আপনার ঘাবড়িয়ে যাবার কিছু নাইl তবে একটা কথা ভুলবেন না যা নিজের এবং অন্যের মঙ্গলার্থে l সর্দি কাশি হলে আপনি অন্যদের থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখবেন (Isolation/quarantine) যাতে করোনা হোক বা না হোক স্বাভাবিক Flu হলেও যাতে জীবাণুটা আপনার প্রিয়জন বা অন্যের কাছে চলে না যায়/ সংক্রমিত না হয় l বেশিরভাগ মেডিকেল সাইন্টিস্ট সর্দি জ্বর হলে ১৪ দিন আলাদা থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন যা মানা অতীব জ্বরুরিl তবে সর্দি জ্বরে আক্রান্ত না হলেও এই সংকটময় সময়ে নিজেকে নিরাপদে রাখা অতীব জ্বরুরিl
ইউনিসেফ এর কিছু তথ্য নীচে দেয়া হলো যা অত্যন্ত দরকারী l মাস্ক ব্যাবহার করা আপনার এবং অন্যের জন্যে উত্তম l করোনাভাইরাস মাটিতে অবস্থান করে, এটি বাতাসে ছড়ায় না। তবে আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচির সাথে বাতাসে ভর করে আপনি তাৎক্ষণিকভাবে সংক্রমিত হতে পারেন তাই সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ধাতব তলে বা বস্তুতে করোনা পড়লে প্রায় ১২ ঘণ্টা জীবিত থাকতে পারে। তাই সাবান দিয়ে হাত ধুলেই যথেষ্ট হবে। করোনাভাইরাস কাপড়ে ৯ ঘণ্টা জীবিত থাকতে পারে। তাই কাপড় ধুয়ে রোদে দুই ঘণ্টা রাখলে ভাইরাসটি মারা যাবে। করোনাভাইরাস হাত বা ত্বকে ১০ মিনিটের মতো জীবিত থাকতে পারে। তাই অ্যালকোহল মিশ্রিত জীবাণুনাশক হাতে মেখে নিলে ভাইরাসটি মারা যাবে। গরম আবহাওয়ায় করোনাভাইরাস বাঁচে না। ৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের তাপমাত্রাই ভাইরাসটিকে মারতে পারে। কাজেই ভালো না লাগলেও বেশি বেশি গরম পানি পান করুন। আইসক্রিম থেকে দূরে থাকুন। লবণ মিশ্রিত গরম পানি দিয়ে গারগল করলে গলা পরিষ্কার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে টনসিলের জীবাণুসহ করোনাভাইরাস দূর হবে। এছাড়া ফুসফুসে সংক্রমিত হবে না। করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে নাকে, মুখে আঙ্গুল বা হাত দেয়ার অভ্যাস পরিত্যাগ করতে হবে। কারণ, মানব শরীরে জীবাণু ঢোকার সদর দরজা হলো নাক-মুখ-চোখ।

করোনার সাথে বসবাস
ডাঃ শানুর আলী মামুন
১৭ এপ্রিল ২০২০
সব দোষ করোনার!
বেঁচে গেলো সব ভাইরাস ব্যাকটেরিয়া
এমনকি কেন্সার l
কি আমি তো করিনি!
নির্বাচিত খুন অন্যায় আর অবিচার
তব অত্যাচারে পৃথিবী নির্বিকার l
অশ্র জলে বিদীর্ন আকাশ
যুদ্ধের সর্বনাশী হুঙ্কার
ভাবলে নেই কেউ দেখিবার !
সিদ্ধান্ত হলো আমাকে পাঠাবার
রাখা হয়নি আমার আবদার
তারপরও তোমাদের হাহাকার l
হতাশ তোমাদের পাউন্ড ডলার
হুশ নাই রণতরী আর এটম বোমার
কত ফন্দি আমাকে আটকাবার!
জেনে নিও ! ধ্বংস নাই করোনার
তবে হলে আবিষ্কার
অবসান হবে তোমাদের শঙ্কার !
থাকবো পাশাপাশি
দেখবে সব দোষ ছিল না আমার
ভেবে নিও কার বেশি পাওয়ার!

লেখক:
ডাক্তার শানুর আলী মামুন
এম বি বিএস, এম এসসি এলার্জি (ইউ কে )
২০ মে ২০২০