২ লাখ ৫ হাজার কোটি টাকার নতুন এডিপি, গুরুত্ব স্বাস্থ্য-কৃষিতে

    83

    অর্থনীতি ডেস্ক: চলতি অর্থবছরের তুলনায় স্বাস্থ্য ও কৃষি খাতে বরাদ্দ বেশি রেখে আগামী ২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) খসড়া চূড়ান্ত করছে পরিকল্পনা কমিশন। নতুন এডিপি’র আকার হবে ২ লাখ ৫ হাজার ১৪৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৪৩ কোটি টাকা ও বৈদেশিক সহায়তা থেকে ৭০ হাজার ৫০১ কোটি ৭২ লাখ টাকা খরচ করা হবে। চলতি ২০১৯০-২০ অর্থবছরের সংশোধিত এডিপির তুলনায় ১২ হাজার ২২৪ কোটি টাকা বেশি ধরা হয়েছে নতুন এডিপিতে।

    পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (১২ মে) কমিশনের বর্ধিত সভায় নতুন এই এডিপি’র খসড়া উত্থাপন করা হবে। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠেয় বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।

    চলতি অর্থবছরের মূল এডিপির আকার ছিল ২ লাখ ২ হাজার ৭২১ কোটি টাকা (স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের বরাদ্দ বাদে)। পরে সংশোধনের মাধ্যমে সংশোধিত এডিপির আকার হয় ১ লাখ ৯২ হাজার ৯২১ কোটি টাকা। ১২ হাজার ২২৪ কোটি টাকা বেশি বরাদ্দ রেখে ২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য এডিপি’র আকার ধরা হয়েছে ২ লাখ ৫ হাজার ১৪৫ কোটি টাকা।

    পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, করোনাভাইরাসের কারণে সার্বিকভাবে প্রভাব পড়েছে অর্থনীতিতে। করোনার ধাক্কা লেগেছে নতুন অর্থবছরের এডিপিতেও। কমছে বৈদেশিক সহায়তায় বরাদ্দ। সেই সঙ্গে কমছে প্রকল্পের সংখ্যাও। তবে করোনার অভিঘাত মোকাবিলার লক্ষ্য থেকেই বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে স্বাস্থ্য ও কৃষি খাতে। তবে সর্বোচ্চ বরাদ্দ থাকছে পরিবহন খাতে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ ও তৃতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ পাচ্ছে শিক্ষা খাত।

    এডিপি তৈরির দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিকল্পনা সচিব মো. নূরুল আমিন সারাবাংলাকে জানান, পরিকল্পনা কমিশনের বর্ধিত সভায় আগামী অর্থবছরের এডিপির চূড়ান্ত খসড়া তৈরি হবে। চলতি মাসের শেষের দিকে এনইসি বৈঠকে এটি চূড়ান্ত অনুমোদন পাবে। ওই বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী ও এনইসি চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা।

    এক প্রশ্নের জবাবে নূরুল আমিন বলেন, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে চলতি অর্থবছরের সংশোধিত এডিপি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। নতুন এডিপি তৈরিতেও স্বাভাবিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়েছে। অন্য বছরের মতো সময় পাওয়া যায়নি। বিশেষ প্রক্রিয়া ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে এডিপি তৈরি করা হচ্ছে।

    বরাদ্দ বাড়ছে স্বাস্থ্য ও কৃষিতে
    করোনা বিবেচনায় আগামী অর্থবছরে স্বাস্থ্য ও কৃষি খাতে সংশোধিত এডিপির তুলনায় বরাদ্দ বাড়ানো হচ্ছে। স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে ১৩ হাজার ৩৩ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের সংশোধিত এডিপিতে এ খাতে বরাদ্দ রয়েছে ১০ হাজার ১০৮ কোটি টাকা। তুলনামূলক বরাদ্দ বাড়ছে ২ হাজার ৯২৪ কোটি ৫১ লাখ টাকা।

    অন্যদিকে, নতুন এডিপি’তে কৃষি খাত পাচ্ছে ৮ হাজার ৪২৪ কোটি টাকা। সংশোধিত এডিপিতে এ খাতে বরাদ্দ রয়েছে ৬ হাজার ৬৭২ কোটি ১১ লাখ টাকা। তুলনামূলক বরাদ্দ বাড়ছে ১ হাজার ৭৫১ কোটি ৮৯ লাখ টাকা।

    সর্বোচ্চ বরাদ্দ যেসব খাতে
    ২০২০-২১ অর্থবছরের এডিপিতে খাতভিত্তিক বরাদ্দে সবার চেয়ে এগিয়ে থাকছে পরিববহন খাতে। এ খাতে বরাদ্দ ধরা হচ্ছে প্রায় ৫২ হাজার কোটি টাকা। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ খাতে বরাদ্দ ধরা হচ্ছে প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা। আর তৃতীয় সর্বোচ্চ শিক্ষা খাতে বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে প্রায় সাড়ে ২৩ হাজার কোটি টাকা। এরই মধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে ১৭টি খাতের বরাদ্দ নির্ধারণ করে পাঠানো হয়েছে পরিকল্পনা কমিশনে।

    বৈদেশিক সহায়তায় বরাদ্দ কমছে
    করোনার প্রভাবে আগামী অর্থবছরের এডিপিতে কমছে বৈদেশিক সহায়তার বরাদ্দ। নতুন এডিপিতে বরাদ্দ ধরা হচ্ছে ৭০ হাজার ৫০১ কোটি ৭২ লাখ টাকা। চলতি অর্থবছরের মূল এডিপিতে এর পরিমাণ ছিল ৭১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। তুলনামূলকভাবে আগামী বাজেটে বৈদেশিক সহায়তার লক্ষ্য কমছে প্রায় ১ হাজার ২৯৮ কোটি টাকা। তবে সংশোধিত এডিপির তুলনায় আগামী অর্থবছরের বরাদ্দ বাড়ছে প্রায় সাড়ে ৮ হাজার কোটি টাকার মতো।

    কমছে উন্নয়ন উন্নয়ন প্রকল্প
    করোনাভাইরাসের কারণে আগামী ২০২০-২১ অর্থবছরের এডিপিতে কমছে উন্নয়ন প্রকল্প। বরাদ্দসহ অনুমোদিত প্রকল্প যুক্ত হচ্ছে ১ হাজার ৫৮৮টি (স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের ছাড়া)। চলতি অর্থবছরের সংশোধিত এডিপিতে এর পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৭৪৪টি। ফলে নতুন অর্থবছরে কমছে ১৫৬টি উন্নয়ন প্রকল্প।

    পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, চলতি অর্থবছরের সংশোধিত এডিপিতে স্বায়ত্তশাসিত প্রাতষ্ঠানের প্রকল্পসহ মোট বরাদ্দসহ অন্তর্ভুক্ত প্রকল্প রয়েছে ১ হাজার ৮৪৭টি প্রকল্প। এর মধ্যে বিনিয়োগ প্রকল্প ১ হাজার ৬০০টি, কারিগরি সহায়তা প্রকল্প ১৪৩টি, জেডিসিএফ প্রকল্প একটি এবং স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের প্রকল্প ১০৩টি। আগামী অর্থবছরের এডিপিতে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানেসহ প্রকল্প যুক্ত হচ্ছে ১ হাজার ৬৭৭টি। ফলে মোট প্রকল্প থেকেও কমছে ১৭০টি উন্নয়ন প্রকল্প।

    পরিকল্পনা কমিশনের কার্যক্রম বিভাগের প্রধান মো. খলিলুর রহমান বলেন, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে স্বাভাবিক অবস্থায় এ সময়ের মধ্যে অন্তত ১০টি একনেক বৈঠক হতো। বৈঠকগুলোতে কমপক্ষে ৬০ থেকে ৭০টি নতুন প্রকল্প অনুমোদন পেত। কিন্তু সেটি হয়নি। তাছাড়া আমরাও নতুন প্রকল্প গ্রহণকে নিরুৎসাহিতও করেছি। এসব কারণে বরাদ্দসহ প্রকল্প সংখ্যা কমেছে।