সর্দি-জ্বর-গলাব্যথা নিয়ে নৌবাহিনীর সদস্যের মৃত্যু, এলাকায় আতঙ্ক

179

ঢাকা সংবাদদাতা: মেহেরপুরে করোনা ভাইরাসের উপসর্গ সর্দি-জ্বর-গলাব্যথায় আক্রান্ত হয়ে নৌবাহিনীর সদস্য নাজমুল হকের (৩৫) মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে কুষ্টিয়ার একটি হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

নাজমুল হকের বাড়ি চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার ফরিদপুর গ্রামে। অসুস্থ হয়ে তিনি মেহেরপুর সদর উপজেলার আমঝুপি ইউপির কোলা গ্রামের বাবুপাড়ায় শ্বশুরবাড়িতে অবস্থান করছিলেন। তার মৃত্যুর খবরে বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে ওই বাড়িটি লকডাউন ঘোষণা করে লাল পতাকা টাঙিয়ে দেয় মেহেরপুর সদর থানা পুলিশ। এরপর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

মেহেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ দ্বারা খান জানান, বাবুপাড়ার খোকনের জামাতা নাজমুল হকের মৃত্যু নিয়ে নানা গুঞ্জন শুরু হওয়ায় ওই বাড়িটি লকডাউন ও আশপাশের কয়েকটি বাড়ির লোকজনকে সতর্ক করা হয়েছে।

প্রতিবেশিরা জানান, নাজমুল হক সর্দি-জ্বর-গলাব্যথায় আক্রান্ত ছিলেন বলে এলাকার অনেকেই জানে। তাদের ধারণা, তার মৃত্যু করোনা ভাইরাস সংক্রমণে হয়ে থাকতে পারে।

মেহেরপুর সদর থানার সহকারী উপ-পুলিশ পরিদর্শক আজম আলী জানান, মেহেরপুর সদর থানার ওসির নির্দেশে ওই বাড়িটি লকডাউন ঘোষণা করে পরিবারের সদস্যদের বাড়ির বাইরে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। আশপাশের কয়েকটি বাড়ির লোকজনকেও সতর্ক করা হয়েছে।

নাজমুলের শাশুড়ি জানান, ১০ দিন ধরে নাজমুল হক তাদের বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। লিভারের সমস্যার কারণে চিকিৎসার জন্য বৃহস্পতিবার সকাল ৭টায় কুষ্টিয়ায় নেওয়া হয় তাকে। সেখানে একটি হাসপাতালে রাত ৮টায় তার মৃত্যু হয়।

মেহেরপুর সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. অলোক কুমার দাস বলেন, ‘নৌ-সদস্য নাজমুল হক করোনার উপসর্গ নিয়ে কোলা গ্রামে তার শ্বশুরবাড়িতে ছিলেন। অসুস্থ বেশি হওয়ায় কুষ্টিয়ায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে বলে জানতে পেরেছি। ওই পরিবারের কয়েকজনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হবে।’