করোনাভাইরাসে থেমে গেছে লন্ডন থেমে গেছে জীবনযাত্রা

1048

শামসুর সুমেল
করোনা ভাইরাস জ্বরে গোটা বিশ্ব থর থর কাপছে ইংল্যান্ড ও তার বাহিরে নয়। এখানকার জনজীবনে স্তব্ধতা নেমে এসেছ। সরকারী আদেশে হোটেল- রেস্তোরাঁ, নাইট ক্লাব, পাব, ক্যাফে, সিনেমা, জিম ও লেজার সেন্টার বন্ধ রয়েছে। বন্ধ রয়েছে লন্ডনের সবকটি মসজিদ, কালচারাল সেন্টার ও অন্যান্য উপাসনালয়। আরো বন্ধ রয়েছে বিয়ে শাদী, চিনিপান, ওয়ালিমা সহ যাবতীয় সামাজিক অনুষ্ঠান। জানাযা পড়া হচ্ছে খুবই সল্প পরিসরে।

সবাই অজানা উৎকণ্ঠায় ভীত, রাস্থাঘাটে আনাগোনা নেই মানুষজনের। যদিও বা কখনো লখনো দুএকজন দেখা যাচ্ছে। তাদের কারো কারো মধ্যে পরিচয় থাকলেও নেই হ্যান্ডশেক, আছে শুধু দুর থেকে হ্যালো বলা। দেখে মনে হয় যেনো কেউ কারো নয়।
যেখানে প্রতিদিন বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা হাজার হাজার পর্যটকের আনাগোনা সেখানটাতে আজ শূন্যতা বিরাজ করছে। এমনই একটি পর্যটন কেন্দ্র লন্ডনের টাওয়ার ব্রিজ। গোটা বিশ্বময় যার পরিচিতি ছড়িয়ে রয়েছে। আর যারা লন্ডন পর্যটনে আসেন তারা যদি টাওয়ার ব্রিজে একবার না ঘুরে যান তবে যোনো পর্যটনের সার্থকতাটাই বৃথা।

পর্যটক বিহীন ঐতিহাসিক টাওয়ার ব্রিজ ।


লন্ডনের বিখ্যাত দর্শনীয় স্থানগুলো প্রাণহীন, পর্যটক শুন্যতায় ঠায় দাড়িয়ে আছে। জনমানবশূন্য বিখ্যাত টাওয়ার ব্রিজের দৃশ্য দেখে মনে হয়েছে দুর্গম পাড়া গাঁয়ের মেঠোপথের ওপারে দাড়িয়ে থাকা কোন কালভার্ট আকাশের পানে ফেল ফেল করে তাকিয়ে আছে।
ব্রিটিশ সরকারের ঘোষনার পর থেকেই লন্ডন আন্ডারগ্রাউন্ড ট্রেনের বেশ কটি স্টেশন বন্ধ রয়েছে।লন্ডনের ব্যাস্থতম স্টেশনগুলি যাত্রী শূন্য হয়ে পড়েছে। স্টার্টফোর্ড, বার্কিং, ব্যাংক, মনুমেন্ট, ওয়েস্টমিনিস্টার, ভিক্টোরিয়া, ক্যানারীওয়ার্ফ’র মতন গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন সহ এরকম বড় বড় সবকটি স্টেশনই যাত্রী শূন্যতায় ভুগছে। এগুলোর আগের চিত্র আর এখনকার চিত্র দেখে চিন্তা করাই যায়না যে এটাইকি সেই জায়গা।
রাজধানী লন্ডন শহরের ফাকা চিত্র দেখে মনে হয় হরতালের দিনে কোনো উপজেলা সদরের চিত্র।

বড় বড় ইংলিশ সুপার মার্কেটগুলো খুলা থাকলেও তাকগুলো দ্রব্য শুন্য ঠায় দাড়িয়ে রয়েছে।তবে তাদের কোনো জিনিষ পত্রের মূল্যের কোনো পরিবর্তন ঘটেনি। ছোট ছোট দোকানপাটগুলোর বেশিরভাগই বন্ধ রয়েছে।আর যেগুলো খুলা আছে বিশেষ করে বাঙ্গালী মালিকানাধীন গ্রোসারি দোকানগুলোতে পূর্ব মূল্যের দ্বিগুণ, তিনগুন চড়া দামে জিনিষপত্র বিক্রি হচ্ছে এমন অভিযোগও রয়েছে। তারা যেনো ব্রিটিশ নিয়ম নীতির তেয়াজ তওয়াক্কা করেনা।