বৃটেন থেকে এখনো সিলেট আসছেন; অধিকাংশই মানছেন না হোম কোয়ারেন্টিন

587

সিলেট সংবাদদাতা: সিলেটের আকাশপথ এখনো খোলা। প্রতিদিনই আসছেন প্রবাসীরা। গতকালও বৃটেন থেকে দুটি ফ্লাইট সিলেটে এসেছে। এসব ফ্লাইটে এসেছেন প্রায় ৬৫ জন। গোটা দুনিয়া যেখানে একে অন্যের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন সেখানে সিলেটের আকাশ পথ এখনো খোলা। গতকাল বিকালে সিলেটে প্রেস ব্রিফিংয়ে জেলা প্রশাসক কাজী এমদাদুল ইসলাম জানিয়েছেন, লন্ডন থেকে আসা ফ্লাইট বন্ধ করার বিষয়টি মন্ত্রণালয়ের। তিনি এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সূত্র জানিয়েছে- গতকাল সকালে বৃটেন থেকে দুটি ফ্লাইট সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে।

এর মধ্যে লন্ডনের হিথ্রো থেকে বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইটে এসেছেন ৩০ জন ও মানচেস্টার থেকে এসেছেন ৩৫ জন। বিমানবন্দরে কেবলমাত্র থার্মো স্ক্যানার দিয়ে পরীক্ষা করে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়। তবে- তার আগে প্রত্যেক যাত্রীর হাতে ১৪ দিনের বাধ্যতামূলক হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার সিল দেয়া হয়। সিভিল এভিয়েশনের এক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন- সিলেটে গতকাল বৃটেন থেকে যে দুটি ফ্লাইট এসেছে তাতে যাত্রী সংখ্যা ছিলো খুবই কম। এর আগে এক সপ্তাহে এই বৃটেন রুটে যাত্রী সংখ্যা কমে এসেছে। তিনি জানান- প্রবাস ফেরত এসব যাত্রীদের ব্যাপারে অধিক সর্তকতা গ্রহণ করা হয়েছে। যথাযথ নিয়ম মেনে তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। তবে- এই স্বাস্থ্য পরীক্ষা পর্যাপ্ত নয়। এ কারনে তাদের হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। সিলেটের স্বাস্থ্য খাতের বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন- প্রবাসীরা দেশে এসে হোম কোয়ারেন্টিন মানলে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু তারা যেভাবে থাকার কথা সেভাবে থাকছেন না। তারা মিশে যাচ্ছেন সমাজের মুল স্রোতে। বিশেষ করে তারা বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে স্বজনদের সঙ্গে বাড়ি যাচ্ছেন। যদি কেউ করোনা ভাইরাস বহন করেন তাহলে সঙ্গে থাকা স্বজন এবং গাড়িও আক্রান্ত হবে। আর বাড়িতে গেলে স্বজনরা আক্রান্ত হবে। এতে করে সামাজিকভাবে গ্রামে গঞ্জে ছড়িয়ে পড়তে পারে করোনা ভাইরাস। এই ঝুঁকির কারণেই এখনই আকাশ পথের ফ্লাইট বন্ধ করে দেয়া উচিত। তবে- সিভিল এভিয়েশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন- খুব সম্ভবত দু’একদিনের মধ্যে আকাশপথে ফ্লাইট বন্ধের নির্দেশনা আসবে। কারন- আকাশপথ এখন ক্রমেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সিলেটের সিভিল সার্জন প্রেমানন্দ মন্ডল জানিয়েছেন- ইতিমধ্যে যেসব প্রবাসী সিলেটে এসেছেন তাদের হোম কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করতে প্রশাসন কাজ করছে। এই বিষয়টি এখন জরুরি হয়ে পড়েছে। হোম কোয়ারেন্টিন যারা মানছেন না তাদের জরিমানার আওতায় আনা হচ্ছে। তিনি বলেন- করোনা ভাইরাস এক দেশ থেকে অন্যদেশে ছড়িয়েছে। সুতরাং প্রবাসীদের এখন কোয়ারেন্টিনে থাকা জরুরি। এদিকে- সিলেটে বিদেশ ফেরত প্রবাসীরা যে কোয়ারেন্টিন মানছেন না- সেই দৃশ্য আবার দেখা গেলো সিলেটে। সকালে বৃটেন থেকে বিমানের একটি ফ্লাইটে সিলেট আসেন জগন্নাথপুর উপজেলা ঘোড়াকালি গ্রামে আব্দুল আউয়াল। তাকে বিমানবন্দরে রিসিভ করেন স্বজনরা। একটি মাইক্রোবাসে করে তিনি চলে আসেন সিলেট নগরে। এসে নিজেই ঢুকে পড়েন একটি ব্যাংকে। জিন্দাবাজারের ওই ব্যাংকে তিনি কাজ সেরে ফের মাইক্রোবাসে উঠে চলে যান। তার এই কর্মকান্ডের বিষয়টি নিয়ে নানা মহলে আলোচনা চলছে। সিলেটের জেলা প্রশাসকও জানিয়েছেন- সিলেটে ইতিমধ্যে প্রশাসনের তরফ থেকে ৬০০ বিদেশ ফেরত প্রবাসীর বাড়িতে অনুসন্ধান চালানো হয়েছে। কিন্তু অনেক প্রবাসীকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। এরপরও প্রশাসনের তরফ থেকে তাদের সতর্ক করে দেয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য মতে- সিলেট বিভাগের ৪ জেলায় গতকাল পর্যন্ত ১৯৫২ জন হোম কোয়ারেন্টিনে অবস্থান নিয়েছেন। নতুন করে গতকাল কোয়ারেন্টিনে ঢুকেছেন ৩৩৬ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ডা. আনিছুর রহমান মানবজমিনকে জানিয়েছেন- যাদের কোয়ারেন্টিনে আনা হয়েছে তারা অধিকাংশই প্রবাসী কিংবা প্রবাসীদের সংস্পর্শে এসেছেন। তিনি বলেন, সিলেট জেলায় কোয়ারেন্টিনে আছেন ৭৭০ জন, সুনামগঞ্জে জেলায় ২৬৪ জন, মৌলভীবাজারে ৪৪৪ জন ও হবিগঞ্জে ৪৭৬ জন। এদিকে, সিলেট শহীদ শামসুদ্দীন হাসপাতালের আইসোলেশন সেন্টারে চিকিৎসাধীন যুক্তরাজ্য ফেরত এক নারীর করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত রিপোর্ট আইইডিসিআর থেকে ‘নেগেটিভ’ আসায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। লন্ডন ফেরত ওই মহিলা ভর্তি হয়েছিলেন ১৬ই মার্চ রাতে।