ছুরি হামলা নিয়ে যা বললেন লন্ডনের মুয়াজ্জিন

604

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: লন্ডনের কেন্দ্রীয় মসজিদে আজানের সময় ছুরি হামলার শিকার সেই মুয়াজ্জিন রাফাত ম্যাগল্যান্ড বলেছেন, যখন তাকে আঘাত করা হয়েছে, তখন তার মনে হয়েছে, তিনি ইটের আঘাত পেয়েছেন। এরপরেই ফ্লোরে পড়ে যান।

সত্তর বছর বয়সী এই বৃদ্ধ বলেন, হামলাকারী পেছন থেকে আমার ওপর চড়াও হয়েছেন। মাথা ওপরে উঠানোর আগে মনে হয়েছে, আমি ইটের আঘাত পেয়েছি। খবর দ্য সানের।

তবে ওই হামলাকারী নিয়মিতই মসজিদে আসলেও তার চেহারায় কোনো আগ্রাসনের লক্ষণ দেখা যায়নি বলে জানালেন এই মুয়াজ্জিন। তিনি বলেন, হামলার জন্য ওই যুবক আমাকে কেন বেছে নিয়েছেন, তা আমার জানা নেই। এটা আমার দুভার্গ্যই বলা চলে।

এদিকে এই মুয়াজ্জিন হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়ে হাস্যোজ্জ্বল চেহারায় ক্যামেরাবন্দি হয়েছেন।

লন্ডনের কেন্দ্রীয় মসজিদের ওই মুয়াজ্জিনের নাম রাফাত। বৃহস্পতিবার আসরের নামাজের আজান দিচ্ছিলেন তিনি। তখন এক শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদী তরুণ তার গলায় ছুরিকাঘাত করেন। প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার পর তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।

আইটিভি নিউজের ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, সত্তর বয়সী ওই মুয়াজ্জিন ছুরি হামলায় আহত হলেও হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়ে বের হওয়ার সময় তার মুখে হাসি লেগে আছে।

তাকে হামলার ঘটনায় ২৯ বছর বয়সী এক যুবককে গ্রেফতার করেছে দেশটির পুলিশ। মসজিদের আয়াজ আহমেদ নামের এক উপদেষ্টা বলেন, মুসল্লিরা যদি ওই হামলকারী যুবককে সামাল না দিতেন, তবে এটা অবশ্যই প্রাণঘাতী হামলা হতো। পুলিশ আসার আগে মুসল্লিরা তাকে ধরে রাখেন।

আয়াজ বলেন, উপস্থিত সবার প্রতিক্রিয়া বেদনাদায়ক ও ভয়ঙ্কর। লোকজন চেঁচামেচি করছিলেন। এটা খুবই বিদ্বেষপূর্ণ হামলা ছিল।

তিনি বলেন, আমরা এমন এক সমাজে বসবাস করি, যেখানে প্রচুর ছুরি হামলার কথা শুনে আসছি। কিন্তু যখন এমন এক হামলা সরাসরি চোখের সামনেই ঘটতে দেখবেন, তখন আপনার অনুভূতি কেমন হবে? এই হত্যাচেষ্টার ঘটনা ছিল খুবই বেদনাদায়ক।

বৃহস্পতিবার রাতে মসজিদটি খোলা ছিল। মুসল্লিরা মূল হল থেকে সরে গেলেও রাতভর নামাজ অব্যাহত ছিল।

এক টুইটবার্তায় ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বলেন, লন্ডন কেন্দ্রীয় মসজিদে এমন একটি হামলার ঘটনার কথা শুনে আমি খুবই মর্মাহত। এবাদতের জায়গায় এমন ঘটনা সত্যিই ভয়ানক।