ভারতীয় যুবাদের কঠিন শাস্তি চান কপিল-আজহার

1013

খেলাধুলা ডেস্ক: বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যকার যুব বিশ্বকাপের ফাইনালে অপ্রীতিকর ঘটনায় বেজায় চটেছেন ভারতের সাবেক ক্রিকেটাররা। কপিল দেব, আজহারউদ্দিন, সুনীল গাভাস্কার ও বিষেন সিং বেদীরা নিজেদের ইয়াং স্টারদেরই বেশি সমালোচনা করেছেন। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের কাছে (বিসিসিআই) বিষ্ণু-আকাশ সিংদের বড় শাস্তি দাবি করেছেন তারা।
আইসিসি ইতিমধ্যেই দুই দলের মোট ৫ ক্রিকেটারকে শাস্তি দিয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশের তিন আর ভারতের রয়েছেন দু’জন। বাংলাদেশের তৌহিদ হৃদয় ১০, শামীম হোসেন ৮ এবং রাকিবুল হাসান ৪ ম্যাচ নিষিদ্ধ হয়েছেন। ভারতের আকাশ সিং ৬ আর লেগস্পিনার রবি বিষ্ণু নিষিদ্ধ হয়েছেন ৫ ম্যাচ। ভারতের প্রথম ওয়ানডে বিশ্বকাপ জয়ী দলের অধিনায়ক কপিল বলেন, ‘অভিযুক্ত খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড (বিসিসিআই) কঠোর শাস্তির ঘোষণা দিক। যাতে একটা উদাহরণ হয়ে থাকে।

প্রতিপক্ষকে গালিগালাজ করা ক্রিকেটীয় কর্মকাণ্ডের মধ্যে পড়ে না। আমি মনে করি এসব যুবাদের বিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে শাস্তি পাওয়াই উচিত।’
আরেক সাবেক অধিনায়ক আজহারউদ্দিন বলেন, ‘আমি হলে অনূর্ধ্ব-১৯ খেলোয়াড়দের বিপক্ষে পদক্ষেপ নিতাম। একইসঙ্গে আমি জানতে চাই, যুব খেলোয়াড়দের যথাযথ শিক্ষা দেয়ার জন্য দলের সাপোর্ট স্টাফের ভূমিকাটা কী? দেরি হয়ে যাওয়ার আগে এখনই কিছু করা উচিৎ। এসব ছেলেদের অবশ্যই শৃঙ্খলা মেনে চলতে হবে।’
৯ই ফেব্রুয়ারি দক্ষিণ আফ্রিকার পচেফস্ট্রুমে অনুষ্ঠিত যুব বিশ্বকাপের ফাইনালে স্লেজিংয়ের পর স্লেজিং হয়েছে। বাংলাদেশ, ভারত কোনো দলের ক্রিকেটারই কম যাননি। বাংলাদেশের রুদ্ধশ্বাস জয়ের পর মাঠেও ঘটেছে অপ্রীতিকর ঘটনা। ভারতীয় ক্রিকেটাররা পতাকা ছিনিয়ে নেয় বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের হাত থেকে। কপিল দেব বলেন, ‘আমি আগ্রাসনকে সাধুবাদ জানাই। এতে কোনো সমস্যা নেই। তবে আগ্রাসনটা হতে হবে নিয়ন্ত্রিত। সীমা ছাড়ানো যাবে না। খেলার মাঠে ইয়াং স্টাররা যে বিশ্রী আচরণ দেখালো, ব্যক্তিগতভাবে আমি বলতে পারি সেটা গ্রহণযোগ্য নয়।’
বাংলাদেশ ইনিংসের ২৩তম ওভারে অভিষেক দাসকে আউট করে বুনো উল্লাসে মাতেন ভারতীয় লেগস্পিনার রবি বিষ্ণু। এমনকি মুখ দিয়ে বাজে শব্দও উচ্চারণ করেন। এ কারণে তাকে বাড়তি দুটি ডিমেরিট পয়েন্ট দিয়েছে আইসিসি। কপিল বলেন, ‘যখন আপনি ব্যাটসম্যানকে আউট করে ফেলেছেন, তখন তাকে অভিশাপ দেয়ার কি দরকার? তাকে আউট করার মধ্য দিয়েই তো আপনি যুদ্ধে জিতে গেছেন।’
কপিলের সুরে সুর মিলিয়ে আজহারউদ্দিন বলেন, ‘আপনি কিভাবে এই কাজ করতে পারেন? আপনি তো পেশাদার খেলার নামে প্রতিপক্ষকে কেবল গালি দিয়ে গেছেন। আমাদের এমন ফাস্ট বোলাররা ছিল যারা ব্যাটসম্যানদের প্ররোচিত বা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করার জন্য আপত্তিকর শব্দ ব্যবহারে বিশ্বাস করতো না।’
ভারতের সাবেক ব্যাটসম্যান বিষেন সিং বেদী বলেন, ‘বাংলাদেশ যা করেছে ওটা তাদের সমস্যা। আমাদের ছেলেরা যা করেছে সেটা আমাদের সমস্যা। আপনি খেয়াল করেছেন যে আপত্তিকর শব্দের ব্যবহার হয়েছে ম্যাচটিতে।’