ভ্রমণ কাহিনী -০১: উই উই সমাচার !!

574

সময়কাল: ১ মার্চ ২০১৭
মন্ট্রিল, কানাডা

বেলা তখন স্থানীয় সময় বিকেল তিনটে।

গত দু দিনের ভ্রমনজনিত ক্লান্তি এবং আলসেমি থেকে নিজেকে বের করার জন্য, যদি হয়ে যায় এরকম একটি অনির্ধারিত মিটিং এর উদ্দেশ্যে হোটেল থেকে বের হওয়ার জন্য তৈরি হলাম।

বাইরের তাপমাত্রা তখন ৭ ডিগ্রী। নিজেকে আরো পরিপাটি করার চেষ্টায় লং কোট টা (বিগত কয়েক ঘন্টার ভ্রমনে বেশ এবড়ো থেবড়ো হয়ে গেছে) না নিয়েই বের হলাম। হোটেল রিসেপশন থেকে গন্তব্য সম্পর্কে একটা পরিস্কার ধারণা নিলাম। বিশেষ করে ট্যাক্সি ভাড়ার ব্যাপারে।

হোটেল থেকে বের হয়ে কিছুক্ষণের মধ্যেই বুজতে পারলাম প্রকৃতির প্রকৃত তাপমাত্রা আর আমার অনুভবের তাপমাত্রার মধ্যে অনেক তফাৎ। এর পরেও লং কোট এর জন্য হোটেল রুম এ ফিরে আসলাম না।

অপেক্ষা করছি ট্যাক্সির জন্য, মাত্র কয়েক মিনিটের অপেক্ষায় শরীর যেন স্বয়ংক্রিয় হয়ে মিঃ বিন এর মতো কসরত শুরু করলো। ইচ্ছে করলে হোটেল লবিতে ফিরে আসতে পারতাম, কিন্তু এক্ষেত্রেও এক আলসেমি ভর করে বসছে।

আলসেমি আর শীতের তীব্রতার এক পর্যায়ে ট্যাক্সিতে উঠলাম। ট্যাক্সিতে উঠে কয়েক মিনিটের মধ্যে বুজতে পারলাম ভিতর আর বাহিরের তাপমাত্রা একই।

তড়িৎ চালক কে জিজ্ঞেস করলাম হিটার অন কিনা? সে একবার পিছনে তাঁকিয়ে বললো উই! আমি আবার বললাম হিটার। উত্তর, উই!
সমস্যায় পরে গেলাম, ভদ্রলোক বহুবচনে কথা বলছে কেনো ! পরক্ষনেই সীমিত ভৌগোলিক জ্ঞানের অভিজ্ঞতায় বুজতে পারলাম আমি তো ফ্রান্সের ই আরেক অসাংবিধানিক ভূখণ্ডে আছি (মন্ট্রিল, কুইবেক)।

একেতো প্রচন্ড ঠান্ডা তার উপর চালকের বহুবচন আর নিতে পারছিলাম না। এইবার কড়া ভাবে বললাম তার গাড়ির হিটার অন করার জন্য। কোনোরকম বহুবচন ছাড়াই এই বার কাজ হয়ে গেলো আর সেটা অনুভব করতে ও অবশ্য আরো কয়েক মিনিট লেগে গেলো।

বেশ ভালোই লাগছিলো ভিতরের গরম পরিবেশে, হটাৎ করে ই মনে হলো এতো দেরি লাগছে কেনো, আমার নেওয়া তথ্য মতেতো এর মধ্যে পৌঁছে যাওয়ার কথা, মিটারের দিকে তাকায় দেখি সেটাও হোটেল থেকে বলে দেওয়া তথ্য থেকে ঢের বেশি হয়ে গেছে।

এবার বুজতে আর একটুও সমস্যা হল না যে আমার বহুবচন চালক ভাই আমাকে দারুন গরম উপহার দিবেন। গন্তব্য কত দূর জিজ্ঞেস করে আর কোনো বিপদে পড়তে চাইনাই।

অবশেষে নিজে নিদারুন গরম উপভোগ করে, ক্রেডিট কার্ড এর উপর আরো কিছু গরম ছেড়ে ট্যাক্সি থেকে নামলাম। নামার সময় কিন্তু চালক ব্যাটা অত্যন্ত বিনয়ের সাথে কট কট ইংরেজিতে জানতে চাইলো আমি গরম হয়েছি কিনা। আমিও অতি বিনয়ে দারুন বললাম। আর ভিতরে ভিতরে বললাম হে চালক! তুমি মোরে উষ্ণতার আবরণে করেছো হিমশীতল।

অনির্ধারিত মিটিং, কিন্তু প্রত্যাশার চেয়ে অনেক সুন্দর ভাবে ই শেষ হলো। এবার আবার যখন রাস্তায় নামলাম মুহূর্তের মধ্যেই বহুবচনের প্রসঙ্গ মনে পরে গেলো।

বিশ্বাস করুন এবার কিন্তু প্রকৃতির প্রকৃত তাপমাত্রার চেয়ে অনুভবের তাপমাত্রা অনেক সহনশীল মনে হলো। মাত্র ৫০ মিনিট হেঁটে আরো অনেকবার অসংখ জনের বহুবচন শুনতে শুনতে, St Catherine সড়কের দু পাশ দেখতে দেখতে, প্রায় হারিয়ে যেতে যেতে দিব্বি হোটেলে ফিরে এলাম, আবার ও বলছি একটু ও ঠান্ডা লাগে নি, ভিতরটা বরং একটু বেশিই গরম ছিলো।

এই মুহূর্তে বাইরের তাপমাত্রা -৮ ডিগ্রী  (২ মার্চ ২০১৭, সকাল ৯:৩৪)

লেখকঃ মোহাম্মদ শিবলী সাদিক
email: shibli.sadeque@outlook.com