পূজার দিনে ভোট সরকারের অন্যায় সিদ্ধান্ত: ড. কামাল

38

ঢাকা সংবাদদাতা: স্বরস্বতী পূজার দিনে ঢাকা সিটি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ ‘সরকারের অন্যায়’ সিদ্ধান্ত বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন।

বুধবার বিকালে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠকের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।

মতিঝিলে ড. কামাল হোসেনের চেম্বারে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির এই বৈঠক হয়।

ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘স্বরস্বতী পূজার দিনে এটা করা সরকারের একটা অন্যায় কাজ হয়েছে। ৩০ জানুয়ারি সরস্বতী পূজা, এটা অতীতে কোনোদিন হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘ঈদের দিনের যদি নির্বাচন হয়, পূজার দিন যদি এটা হয়। এটা সরকারের একদম গাফিলতি এবং ব্যর্থতা’।

৩০ জানুয়ারি ভোটের তারিখ পরিবর্তনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী কর্মসূচি পালন করছে- এর প্রতি আপনাদের সমর্থন আছে কিনা প্রশ্ন করা হলে ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘নীতিগতভাবে তো আমরা পক্ষে।’

সিটি নির্বাচনে নিরপেক্ষতা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে সরকারের দলীয় প্রার্থী, মন্ত্রী-এমপিদের নির্বাচন আচরণবিধি ভঙ্গ করা এবং ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীদের নির্বাচনী জনসংযোগে বাধা ও হামলা প্রমাণ করে নির্বাচনের কোনো সুষ্ঠু পরিবেশ নেই। এ ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনও কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। দেশের জনগণ নির্বাচনের পক্ষে। কারণ এর মাধ্যমে জনগণ রাষ্ট্রে তার মালিকানা নিশ্চিত করতে পারে। অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন ছাড়া এই মালিকানা নিশ্চিত হবে না।

দুইটি সিটিতে ৪টি পথসভা করার ঘোষণা দিয়ে ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন উপলক্ষে উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে দুইটি করে মোট ৪টি পথসভা আমরা করব’।

কন্যাকে ধর্ষণের জন্য তুলে দেয়া অভাব-অসহায়ত্বের প্রকৃষ্ট উদাহরণ মন্তব্য করে ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘দেশের অর্থনীতি এমন ভয়ঙ্কর অবস্থায় গেছে যে, একজন পিতা হাজার টাকা ঋণ পরিশোধ করতে না পেরে নিজ কন্যাকে ধর্ষণের জন্য তুলে দিয়েছেন পাওনাদারের হাতে। সরকার যখন উন্নয়ন ধরতে চাচ্ছে তখন মানুষের অভাব এবং অসহায়ত্ব কোন্ পর্যায়ে গেছে এ ঘটনা তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ।’

বৈঠকে শেয়ারবাজারকে নানা কারসাজির মাধ্যমে ধ্বংস করে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের সর্বশ্বান্ত করে অর্থ লুণ্ঠনের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

এ সময় ড. কামাল বলেন, অর্থনীতির খুব গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ শেয়ারবাজারকে নানা কারসাজির মাধ্যমে ধ্বংস করা হয়েছে। এতে লাখ লাখ ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীকে পথে বসিয়ে সরকারের সঙ্গে যুক্ত কিছু ব্যবসায়ী হাজার হাজার কোটি টাকা লুট করেছে। সর্বস্ব হারিয়ে এখন পর্যন্ত দু’জন মানুষ আত্মহত্যা করেছেন।

ড. কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন জেএসডি সভাপতি আ স ম আব্দুর রব, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, বিকল্পধারার একাংশের সভাপতি অধ্যাপক নুরুল আমিন বেপারী, গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক ড. রেজা কিবরিয়া, গণফোরাম নেতা অধ্যাপক আবু সাইয়িদ, অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, অ্যাডভোকেট জগলুল হায়দার আফ্রিক, জেএসডি কার্যকরী সভাপতি সা কা ম আনিছুর রহমান খান, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সানোয়ার হোসেন, নাগরিক ঐক্যের শহীদ উল্লা কায়সার, ডা. জাহেদ-উর-রহমান ও ঐক্যফ্রন্টের দফতর প্রধান জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু।